বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ
বীরগঞ্জে শিশু উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে উত্তরবঙ্গ শিশু উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প ব্যবস্থাপক রতন কুমার রায়ের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ লুথারেন চার্চ (বিএলসি) পরিচালিত এ প্রকল্পে প্রায় তিন লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে স্থানীয় বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক সুবিধাভোগী শিশুর অভিভাবক।
অনুসন্ধানে জানা যায়— কাহারোল উপজেলার ডহচী জয়নন্দহাট এলাকার সুর্দশন চন্দ্র রায়ের ছেলে পঙ্কজ রায় উত্তরবঙ্গ শিশু উন্নয়ন প্রকল্পের একজন নিবন্ধিত সুবিধাভোগী। প্রকল্পের আওতায় শিশুদের জন্য খাদ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার কথা থাকলেও প্রকল্প ব্যবস্থাপক রতন কুমার রায় ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর সুর্দশন রায়ের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা ধার নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পের তহবিল সংকটের কথা বলে ওই অর্থ ধার নেন রতন কুমার রায়। এর বিপরীতে তিনি একটি ল্যাপটপ, ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের ফাঁকা চেকের পাতা, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি এবং ১০০ টাকার তিনটি স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন। তবে দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও টাকা ফেরত না দিয়ে নানা অজুহাত দেখাতে থাকেন তিনি। একপর্যায়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
সুর্দশন রায় আরও অভিযোগ করেন, প্রকল্পের এলসিসি কমিটির সভাপতি বিজয় কুমার রায় ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক রতন কুমার রায় একসঙ্গে নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে গত ২১ নভেম্বর বিজয় কুমার রায় তাকে হুমকি-ধামকি দেন এবং ল্যাপটপ চুরির অভিযোগে থানায় জিডি ও মামলা করার ভয় দেখান বলে অভিযোগ করা হয়।
এ বিষয়ে বীরগঞ্জ লুথারেন চার্চের চেয়ারম্যান নিলয় রায়ের কাছেও অভিযোগ করা হলেও তিনি কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেননি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রকল্পের সভাপতি ও ব্যবস্থাপক জয়নন্দহাট ও কালোপীর বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাল, তেল, সাবান, ফলমূল, জুতা ও অন্যান্য সামগ্রী বাকিতে সংগ্রহ করে সেসবের অর্থ পরিশোধ না করে আত্মসাত করেছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া শিশুদের জন্য কম দামে পণ্য কিনে বেশি মূল্যের ভাউচার তৈরি, ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত রতন কুমার রায়ের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সবার দেশ/কেএম




























