ভৈরবে ট্রেন লাইনচ্যুত, ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ বন্ধ
কিশোরগঞ্জের ভৈরব আউটার স্টেশন এলাকায় চট্টগ্রাম মেইল ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রেলপথে দীর্ঘ সময় ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ঢাকা–চট্টগ্রাম, ঢাকা–সিলেট, ঢাকা–নোয়াখালী, ঢাকা–কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম–ময়মনসিংহ রুটে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেন আটকে থাকায় হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগ ও ক্ষোভের মধ্যে পড়েন।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টায় ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রাম মেইল (ডাউন) ট্রেনটি ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে ভৈরব বাজার জংশনে যাত্রাবিরতি শেষে ভৈরব স্টেশন অতিক্রম করে আউটার সিগনাল এলাকায় পৌঁছালে একটি বগির দুটি চাকা বিকট শব্দে লাইনচ্যুত হয়। এতে সঙ্গে সঙ্গে ওই লাইনে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর আখাউরা থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে একটি চাকা উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অপর চাকার উদ্ধার কাজ তখনো চলমান ছিলো। দুর্ঘটনার আট ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও রেললাইন পুরোপুরি সচল না হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে থাকে।
এ দুর্ঘটনার প্রভাবে ঢাকাগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস, আন্তনগর পারাবত এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস, তিতাস কমিউটার, উপকূল এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস, পর্যটক এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতী এবং কিশোরগঞ্জগামী এগারো সিন্ধুর প্রভাতীসহ অন্তত ৯ থেকে ১০টি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়ে। অনেক ট্রেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকায় যাত্রীদের খাবার, পানি ও শৌচাগার সংকটে পড়তে হয়।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার মো. আবু ইউসুফ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে জানান, উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুপুর ১টার মধ্যে লাইন পুনরায় সচল করে ধীরে ধীরে ট্রেন চলাচল শুরু করা সম্ভব হতে পারে।
রেলওয়ের এ দীর্ঘসূত্রতা ও বারবার দুর্ঘটনায় যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত উদ্ধার কাজ শেষ করে নিরাপদ ও স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সবার দেশ/কেএম




























