সিএনএনের প্রতিবেদন
ইরান যুদ্ধ থেকে পালানোর পথ খুঁজছেন ট্রাম্প
ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাব্য পথ খুঁজছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কাছ থেকে ভিন্নধর্মী বার্তা পাওয়ায় হোয়াইট হাউসের নীতিনির্ধারণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানায়, ট্রাম্প এমন এক সময়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসানের উপায় খুঁজছেন, যখন ইসরায়েল ও সৌদি আরব ইরান ইস্যুতে ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে চাপ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনে আরও সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিপরীতে সৌদি আরব আঞ্চলিক উত্তেজনা কমিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান সম্প্রতি এক অনানুষ্ঠানিক সফরে ওয়াশিংটনে গিয়ে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বার্তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্সের কাছে পৌঁছে দেন। বার্তায় রিয়াদ স্পষ্টভাবে জানায়, তারা ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনের পক্ষে এবং চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা পুরো অঞ্চলের জন্য গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করে।
এর একদিন আগেই হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ওই বৈঠকে তিনি ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সফলতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়ানোর বিভিন্ন সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দুই গুরুত্বপূর্ণ মিত্রের বিপরীতধর্মী অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন কৌশল নির্ধারণকে কঠিন করে তুলেছে। একদিকে ইসরায়েল সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার পক্ষে, অন্যদিকে সৌদি আরব সংঘাত এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্প এখনও একটি সম্ভাব্য সমঝোতায় পৌঁছানোর আশাবাদ ব্যক্ত করে চলেছেন। তবে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তিনি বর্তমানে দুটি ভিন্ন কৌশলের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছেন—একদিকে ইরানের ওপর আরও কঠোর চাপ প্রয়োগ, অন্যদিকে উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের চেষ্টা।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ শুধু ওয়াশিংটনের নীতিকেই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
সবার দেশ/এমকেজে




























