জানালেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
তিন শর্তে যুদ্ধ থামাতে প্রস্তুত ইরান
চলমান সংঘাত বন্ধে অবশেষে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। তবে যুদ্ধবিরতিতে যেতে হলে তিনটি স্পষ্ট শর্ত পূরণের কথা জানিয়েছে দেশটি। এই শর্তগুলো তুলে ধরেছেন ইরানের প্রেসিডেন্টমাসুদ পেজেশকিয়ান।
বুধবার (১১ মার্চ) রাশিয়া ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি ইরানের অবস্থান তুলে ধরেন। সেখানে তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধে ইরান প্রস্তুত, কিন্তু দেশের বৈধ অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনও সমঝোতায় যাবে না তেহরান।
পেজেশকিয়ান জানান, আলোচনায় তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে চলমান সংঘাতের পেছনে মূল উসকানিদাতা হিসেবে তেহরান ‘জায়নিস্ট শাসকগোষ্ঠী’ ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
ইরানের দেয়া তিনটি শর্তের মধ্যে প্রথমটি হলো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইরানের বৈধ ও ন্যায্য অধিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া। তেহরানের দাবি, তাদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়টি অস্বীকার করে কোনও শান্তি উদ্যোগ টেকসই হতে পারে না।
দ্বিতীয় শর্ত হিসেবে সাম্প্রতিক হামলার ফলে ইরানের যে সামরিক ও অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। তেহরানের মতে, ক্ষয়ক্ষতির দায় যাদের ওপর বর্তায় তাদেরই এর দায়ভার নিতে হবে।
তৃতীয় শর্তটি হলো ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে আর কোনও হামলা না হয়—এমন শক্তিশালী আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা দিতে হবে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে তেহরান।
এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়া পরিস্থিতি শান্ত করতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছে বলে জানা গেছে।
তবে ইরানের শর্তগুলো নিয়ে এখনও কোনও সমঝোতার ইঙ্গিত মেলেনি। বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান যদি এ অবস্থানে অনড় থাকে, তাহলে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
এর মধ্যেই সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। বুধবার ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে একযোগে প্রায় ১০০টি রকেট নিক্ষেপ করে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, রকেটগুলো উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমাধানের দিকে।
সবার দেশ/কেএম




























