শিক্ষকদের লাগাতার অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত তিন দফা দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন। এ আন্দোলনের কারণে রাজধানীর ওই এলাকায় যান চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
শিক্ষক-কর্মচারীরা বিশেষত মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া দেয়ার দাবিতে আন্দোলন করছেন। এর পাশাপাশি তাদের দুই অন্যান্য দাবি হলো: শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য মাসিক চিকিৎসা ভাতা ১,৫০০ টাকা করা এবং কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ করা।
মানববন্ধনে অংশ নেয়া ভোলার স্কুল শিক্ষক মুসলেউদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের বাড়িভাড়া ভাতা মাত্র ১,৫০০ টাকা, চিকিৎসার জন্য মাসে দেয়া হয় মাত্র ৫০০ টাকা। তাই আমরা ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছি।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ৫০০ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা করার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। তবে শিক্ষকরা মনে করছেন, এটি যথেষ্ট নয়। তাদের দাবি, বাড়িভাড়া মূল বেতনের অন্তত ২০ শতাংশ হারে (ন্যূনতম তিন হাজার টাকা) হওয়া উচিত।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার) গত ৭ আগস্ট অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদকে একটি আধা সরকারি পত্র পাঠিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছিলেন। ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে এ বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত ৭৬৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকার প্রয়োজন হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে আবারও অনুরোধ পাঠিয়েছে যাতে বাড়িভাড়া মূল বেতনের শতকরা হারে প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া দিলে প্রায় ৩,৪০০ কোটি টাকা, ১৫ শতাংশ হারে ২,৪৩৯ কোটি, ১০ শতাংশ হারে ১,৭৬৯ কোটি এবং ৫ শতাংশ হারে ১,৩৭১ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।
সবার দেশ/কেএম




























