শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন আরও তীব্র আকার নিয়েছে। নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাত থেকে একের পর এক বিভাগ পৃথক বিবৃতির মাধ্যমে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত জানাতে থাকে। মধ্যরাতে সর্বশেষ অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিবৃতি দিয়ে এ কর্মসূচিতে যুক্ত হলে শাবির মোট ২৮টি বিভাগের সব শিক্ষার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনে অংশ নেন।
শিক্ষার্থীরা তাদের বিবৃতিতে শাকসু নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক ও অগণতান্ত্রিক আখ্যা দেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত ছাত্র সংসদ না থাকায় শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার ও মতামত উপেক্ষিত হচ্ছে। নির্বাচন স্থগিতের মাধ্যমে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
শাকসু নির্বাচন স্থগিতের ঘটনায় শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক, স্বেচ্ছাসেবী ও আঞ্চলিক সংগঠনও প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে। এসব সংগঠন পৃথক বিবৃতিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে শাকসু নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা এবং নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার দিনভর ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যার পর কর্মসূচি শেষ হলেও রাতে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। রাতের দিকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন, যা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
বিক্ষোভ শেষে আয়োজিত সমাবেশে রাত সাড়ে ৮টার দিকে আন্দোলনের সমন্বয়কারীরা সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের আহ্বান জানান। তারা ঘোষণা দেন, শাকসু নির্বাচন আয়োজনের সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন আরও বিস্তৃত করা হবে।
শিক্ষার্থীদের এ কর্মসূচির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলন কোন পথে গড়ায় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।
সবার দেশ/কেএম




























