Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২:৩৭, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

বাড়ছে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

হঠাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ কমালো ভারত

হঠাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ কমালো ভারত
প্রতীকি ছবি

হঠাৎ করেই ভারত থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশে নতুন করে বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছে। গত কয়েক দিনে ভারত থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুৎ ৪২৭ মেগাওয়াট কমানো হয়েছে। একই সময়ে আদানি গ্রুপের ঝাড়খণ্ডের ১৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থাভাবে পর্যাপ্ত ফার্নেস অয়েল মজুত না থাকা। সব মিলিয়ে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ বাড়ছে।

শীতকাল হলেও বৃহস্পতিবার সান্ধ্যকালীন পিক আওয়ারে সারা দেশে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হয়েছে। বিশেষ বিবেচনায় রাজধানী ঢাকাকে আপাতত লোডশেডিংয়ের বাইরে রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আদানি গ্রুপের ১৬০০ মেগাওয়াট কেন্দ্রের মধ্যে ৮০০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিটটি বাৎসরিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গত ১৬ জানুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি ভারত থেকে বেসরকারিভাবে আমদানিকৃত ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গত চার দিন ধরে কাটছাঁট করে মাত্র ৪৭৩ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হচ্ছে। এ দুই কারণে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ ঘাটতি বেড়ে যায়।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ভারত মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ রফতানি কমিয়ে দেয়। বর্তমানে সে কারণেই হয়তো সরবরাহ কমেছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ভারত কেনো বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়েছে তা তিনি এখনও নিশ্চিত নন, বিষয়টি খোঁজ নেয়া হচ্ছে।

বর্তমানে মাঘ মাস চললেও পিডিবিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সান্ধ্যকালীন পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১১ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট। তবে সর্বোচ্চ সরবরাহ করা যাচ্ছে ১১ হাজার থেকে ১১ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। এ অবস্থায় আসন্ন গরম মৌসুমে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ থেকে ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে।

বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে সাশ্রয়ী। দেশে ৫০টি গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রে উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ১২ হাজার ৯২ মেগাওয়াট। কিন্তু পেট্রোবাংলা চাহিদার অর্ধেক গ্যাসও সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে গ্যাসভিত্তিক উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াটে।

এর মধ্যেই মঙ্গলবার চট্টগ্রামের মদুনাঘাট-করের হাট গ্রিড লাইনে ট্রিপের ঘটনা ঘটে। এতে বন্ধ হয়ে যায় এস আলম গ্রুপের কয়লাভিত্তিক এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ইউনিট। এসএস পাওয়ারের চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার মোহাম্মদ এমদাদ হোসেন জানান, বুধবার রাতে ওই ইউনিট পুনরায় চালু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে কেন্দ্রটি প্রায় ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। পিডিবি জানিয়েছে, এই ইউনিট চালু হওয়ার পর লোডশেডিং কিছুটা কমেছে।

সরকারি কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত শীতকালে পিক আওয়ারে তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেয়া হয়। কিন্তু চলতি সপ্তাহে পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হয়েছে। এসএস পাওয়ারের ইউনিট চালু হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় তেলভিত্তিক উৎপাদন কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৮৫ মেগাওয়াটে। তবে কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, তেলের মজুত সীমিত।

তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রতি ইউনিট খরচ পড়ে ২২ থেকে ২৪ টাকা। অথচ পিডিবি গ্রাহকের কাছে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রি করে মাত্র ৬ টাকা ৬৫ পয়সায়। ফলে তেলভিত্তিক উৎপাদন বাড়ালে সরকারের লোকসান আরও বেড়ে যায়। গত অর্থবছরে পিডিবি বিদ্যুৎ কিনে লোকসান দিয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ভর্তুকি দিয়েছে ৩৮ হাজার কোটি টাকা, বাকি ১৭ হাজার কোটি টাকার দায় থেকে গেছে পিডিবির ওপর।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ সময়ে অতিরিক্ত তেলভিত্তিক উৎপাদনে নির্ভর করলে গরমকালে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি তৈরি হবে। কারণ তখন প্রয়োজনীয় ভর্তুকি বা অর্থ বরাদ্দ নাও পাওয়া যেতে পারে।

এদিকে ভারতের একটি কেন্দ্রের ট্রান্সফরমারে সমস্যার কারণে গত তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমানো হয়েছে বলে জানা গেছে। ভারত থেকে ভেড়ামারা দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি তিনটি প্রতিষ্ঠান মোট ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রফতানি করে। এর মধ্যে সেমকন সরবরাহ করে ৪২০ মেগাওয়াট। তাদের একটি কেন্দ্রের ট্রান্সফরমারে ত্রুটি দেখা দেয়ায় রোববার থেকে সরবরাহ নেমে এসেছে ৪৭৩ মেগাওয়াটে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ২৬ জানুয়ারির পর ওই সমস্যা সমাধান হলে সেমকন পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করবে।

পিডিবি বর্তমানে ভারত থেকে ভেড়ামারা দিয়ে ৯০০ মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা দিয়ে আরও ১১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করে। ত্রিপুরা লাইনে আপাতত কোনও ঘাটতি নেই। এর বাইরে আদানি গ্রুপের কেন্দ্র থেকে ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশ প্রায় ২৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করে থাকে।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আদানি গ্রুপের ৮০০ মেগাওয়াটের ইউনিটটি আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি পুনরায় চালু হওয়ার কথা রয়েছে। সেটি সময়মতো চালু হলে এবং ভারত থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ সংকট কিছুটা কাটবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

ভারতের তৈরি ম্যালওয়্যার বঙ্গভবনের মেইলের মাধ্যমে ছড়ানো হয়
সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের রক্তক্ষয়ী সংঘাত তীব্রতর
প্যারিসে এক্স কার্যালয়ে তল্লাশি ও ইলন মাস্ককে তলব
জামায়াত আমিরের এক্স হ্যান্ডেল হ্যাকড, বঙ্গভবনের আইসিটি কর্মকর্তা
বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত গাদ্দাফির দ্বিতীয় ছেলে সাইফ
জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া বিএনপির মুদ্রাদোষ: রেজাউল করিম
ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে জড়িত ১৩৯ বিদেশি গ্রেফতার
গায়ক নোবেলসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি
৬৫০ টাকায় গরুর মাংস ও ৮ টাকায় ডিম দেবে সরকার
জামায়াত আমিরের এক্স হ্যান্ডেল হ্যাকড, মধ্যরাতে ডিবির অভিযান
বিএনপির দাবিতে ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি বাতিল
ক্যানসার প্রতিরোধে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ পাসের আহ্বান
শার্শায় ধলদা হাইস্কুল মাঠে ধানের শীষের বিশাল জনসভা
অ্যাপেই মিলবে ভোটকেন্দ্র ও প্রার্থীদের সব তথ্য
জামায়াত প্রার্থীকে আলটিমেটাম এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের
এস আলমের মামলা লড়ছে ব্রিটিশ ল ফার্ম, ঘণ্টায় খরচ দেড় লাখ টাকা
নওগাঁয় বিএনপি–জামায়াতের নির্বাচনী সংঘর্ষ, আহত ১০
আওয়ামী লীগের এ অঞ্চলের দায়িত্ব নিলাম: নুর
জামায়াতের আরও একটি অ্যাকাউন্ট হ্যাকের দাবি