Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৪২, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

বছরে বাড়তি দিতে হচ্ছে ৪০০–৫০০ মিলিয়ন

আদানির বিদ্যুতে বাংলাদেশের গচ্চা ১০ বিলিয়ন ডলার

আদানির বিদ্যুতে বাংলাদেশের গচ্চা ১০ বিলিয়ন ডলার
ফাইল ছবি

ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে বাংলাদেশ প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। শুধু অতিরিক্ত দামের কারণেই বছরে গচ্চা দিতে হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চুক্তি পর্যালোচনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি।

কমিটি জানায়, আদানি চুক্তিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ভারতের অন্যান্য উৎসের তুলনায় ৪ থেকে ৫ সেন্ট বেশি মূল্য পরিশোধ করছে বাংলাদেশ। ২০২৫ সালের মধ্যে এ দাম বেড়ে প্রতি ইউনিট ১৪ দশমিক ৮৭ সেন্টে দাঁড়াবে। এতে চুক্তির ২৫ বছরে প্রতি বছর বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমানে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ আসে ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। তবে শুরু থেকেই এ চুক্তির স্বচ্ছতা, কয়লার মান ও দাম নিয়ে প্রশ্ন উঠে আসছে।

অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিশেষ আইনের আওতায় করা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চুক্তিগুলো পর্যালোচনার জন্য পাঁচ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশেষ বিধান ব্যবহার করে জাতীয় স্বার্থকে পাশ কাটিয়ে গোষ্ঠীস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। বিশেষ আইনের অপব্যবহার, যোগসাজশ, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের ফলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কার্যত দেউলিয়ার পথে।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কমিটি দাবি করে, আদানির সঙ্গে চুক্তিতে প্রকৃত দামের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত বিদ্যুৎ খাতের একাধিক ব্যক্তি মিলিয়ন ডলার সুবিধা পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

কমিটি আরও জানায়, চুক্তিতে দুর্নীতির তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে আদানি পাওয়ারকে জানানো এবং প্রয়োজনে সিঙ্গাপুরের আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে আদানি চুক্তি বাতিল কিংবা আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকার নয়, পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

কমিটির প্রধান বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন,

বল এখন বিদ্যুৎ বিভাগের কোর্টে। মামলা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে। যেহেতু বর্তমান সরকারের সময় সীমিত, আমরা চাই পরবর্তী সরকার যেনো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, বিলম্ব হলে আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

এদিকে আদানি পাওয়ার এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, জাতীয় কমিটির প্রতিবেদনের বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। বাংলাদেশ সরকারের কোনও কর্তৃপক্ষ তাদের মতামত জানতে চায়নি বলেও অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে দ্রুত বকেয়া বিল পরিশোধের আহ্বান জানিয়েছে আদানি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এ পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গত ২০ জানুয়ারি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়।

সবার দেশ/কেএম

সম্পর্কিত বিষয়:

শীর্ষ সংবাদ:

রক্ত দিয়ে হলেও ভোট চুরি ঠেকাবেন: সারজিস
ঢাকা-৮-কে ‘মদিনার সমাজ’ গড়ার প্রতিশ্রুতি নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারীর
নেত্রকোনায় একাধিক ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ
গাজীপুরে ৫০ কিলোমিটার যানজট, তিনগুণ ভাড়া
জন্মহার বাড়াতে ‘তরুণী আমদানি’র প্রস্তাব
নির্বাচন উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়
বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য আলী মামুদের লাশ উদ্ধার
নির্বাচনী পরিবেশ আশাব্যঞ্জক: ইইউ প্রধান পর্যবেক্ষক
রুমিনের পাশে জাতীয় পার্টি, ভোট ঘিরে বাড়ছে উত্তাপ
নৈতিক শিক্ষা জোরদারে ১৩ হাজার ধর্মীয় গ্রন্থ দিলেন ধর্ম উপদেষ্টা
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: তারকারা কে কোন আসনে ভোট দেবেন
বিশ্বকাপ অভিষেকে ইতালির বড় হার
নাইজারের ড্রোন হামলায় ১৭ বেসামরিক নাগরিক নিহত: এইচআরডব্লিউ
‘ভুয়া তথ্যের’ ভিত্তিতে নাহিদের প্রার্থিতা স্থগিতের রিট
শর্ত মেনে নিয়েছে আইসিসি, ভারতের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান
আজ সকাল থেকে মিছিল-সভা নিষিদ্ধ
নির্ধারিত সময়েই পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে: তারেক রহমান
দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত ইনসাফের বাংলাদেশ উপহার দেবো
প্রায় সব উপদেষ্টা সম্পদের হিসাব জমা দিয়েছেন, শিগগিরই প্রকাশ
সব প্রার্থীকে নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিলের নির্দেশ
দাঁড়িপাল্লার পক্ষে প্রচার করায় সাইবার বুলিংয়ের শিকার ডা. মিতু