Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৩০, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

পিডিবির বিশাল আর্থিক রক্তক্ষরণ

আদানির বিদ্যুৎ কিনে লোকসান ১৪ হাজার কোটি টাকা

আদানির বিদ্যুৎ কিনে লোকসান ১৪ হাজার কোটি টাকা
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের আদানি গ্রুপের সাথে সম্পাদিত একতরফা বিদ্যুৎ চুক্তির খেসারত দিচ্ছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎ ও কয়লার চড়া দামের কারণে গত দুই বছরে শুধু এ একটি কেন্দ্রের বিদ্যুৎ কিনতেই পিডিবির লোকসান হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে গত এক বছরেই লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার কোটি টাকা। পিডিবি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম এ সংকটজনক পরিস্থিতির কথা সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত করেছেন।

২০১৭ সালে স্বাক্ষরিত বিতর্কিত এ চুক্তি অনুযায়ী, ভারতের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কিনতে বাধ্য হচ্ছে বাংলাদেশ। বিদ্যুৎ না নিলেও প্রতি মাসে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে আদানিকে গুণতে হচ্ছে। গত দুই অর্থবছরে বিদ্যুৎ আমদানি বাবদ আদানিকে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার বিল দেয়া হয়েছে। চুক্তি মেয়াদের ২৫ বছরে শুধু ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদই ১ লাখ কোটি টাকার বেশি খরচ হবে, যা তিনটি পদ্মা সেতু নির্মাণের ব্যয়ের সমান।

উৎপাদন খরচের আকাশছোঁয়া পার্থক্য

পিডিবির হিসাব অনুযায়ী, আদানির বিদ্যুতের দাম দেশীয় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র এমনকি ভারতের অন্যান্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের চেয়েও অনেক বেশি। বর্তমানে ভারতের অন্যান্য উৎস বা নেপাল থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুতের গড় খরচ ইউনিট প্রতি ৮ টাকা ৭১ পয়সা হলেও আদানির ক্ষেত্রে তা ১৪ টাকা ৮৬ পয়সা। চলতি বছরে আদানির বিদ্যুতের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ১৬ মার্কিন সেন্ট, যেখানে অন্যান্য কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের গড় মূল্য ছিলো ১১ দশমিক ৩০ সেন্ট।

কয়লার দামে কারসাজি ও আইনি লড়াই

আদানির বিদ্যুতের দাম বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ কয়লার উচ্চমূল্য। নিজস্ব খনি থেকে কয়লা সরবরাহ করলেও আদানির কয়লার দাম প্রতি টনে অন্যান্য কেন্দ্রের চেয়ে ৫-৬ ডলার বেশি পড়ছে। কয়লার এ মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি নিয়ে পিডিবির সাথে আদানির তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, যা বর্তমানে সিঙ্গাপুরের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারাধীন।

আদানির পাওনা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ

বকেয়া বিল নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে গত নভেম্বরে আদানি গ্রুপ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকি দিয়েছিলো। বর্তমানে বিরোধপূর্ণ বিল বাদেও তাদের পাওনা দাঁড়িয়েছে ৩৫ কোটি ডলার। তবে আদানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখতে চায়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদানির সাথে এ চুক্তি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় বোঝা। বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেনের মতে, সরকারের উচিত আলোচনার মাধ্যমে এ অসম চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন করা এবং বিদ্যুতের দাম কমানোর সুস্পষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা। যেখানে ভারতের মধ্যপ্রদেশে অন্য একটি কোম্পানি অর্ধেকেরও কম দামে বিদ্যুৎ দিচ্ছে, সেখানে আদানির সাথে উচ্চমূল্যের এ চুক্তি বজায় রাখা আত্মঘাতী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

খামেনি হত্যার প্রতিশোধের লাল পতাকা উড়ালো ইরান
ইসরায়েলি হামলায় কেঁপে উঠলো ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন
চরাঞ্চলের অর্থনীতিতে ভরসা প্রাণিসম্পদ খাত, সেবার সংকটে শঙ্কা
রাষ্ট্রপতির অভিশংসনেই সংসদের যাত্রা শুরু হোক: আসিফ
ইরানে হামলার তীব্র নিন্দা জামায়াত আমিরের
রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করে গ্রেফতারের দাবি নাহিদ ইসলামের
যুক্তরাষ্ট্রে রাতভর গোলাগুলি, নিহত ৩, আহত ১৪
ভারত থেকে দেশে ফিরলো আওয়ামী এমপির লাশ
যশোরে জেলা জজ পদশূন্য, ভারপ্রাপ্ত জজের ওপর অনাস্থা
খামেনিকে হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
কোকো ভাইয়ের অবদান তুলে ধরতে পারিনি—অনুশোচনায় তামিম
হরমুজ প্রণালি বন্ধে বিশ্ব তেলবাজার টালমাটাল-দাম লাফিয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি
জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল প্রশাসনের ওপর গুরুত্বারোপ
বীরগঞ্জে ২ মাদক সেবীর কারাদণ্ড
খাগড়াছড়িতে আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদ নির্বাচনসহ ৭ দফা দাবিতে স্মারকলিপি
আধিপত্যবাদের নগ্নরূপ: আক্রান্ত ইরান ও সভ্যতার সংকট
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ নিহত: রিপোর্ট
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র চুরমার করলো ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা, নিহত ৮