‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সংহতি জানালো
গাজার কান্নায় ‘স্বাধীনতা কনসার্ট’ স্থগিত
গাজা ও রাফায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের চলমান বর্বরোচিত গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে ‘স্বাধীনতা কনসার্ট’ স্থগিত করেছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’।
সোমবার (৭ এপ্রিল) সংগঠনের সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনির স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনাদের অব্যাহত বিমান হামলা, নির্বিচার হত্যা ও মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে গাজার নির্যাতিত জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বগুড়ায় পূর্ব নির্ধারিত ‘স্বাধীনতা কনসার্ট’ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
মূলত, মহান স্বাধীনতা দিবস (২৬ মার্চ) উদ্যাপনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশি শিল্পীদের অংশগ্রহণে ১১ এপ্রিল শুক্রবার এ কনসার্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো। ভেন্যুগুলো নির্ধারিত ছিলো—জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের মানিক মিয়া এভিনিউ, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বগুড়ায় আলাদা জায়গায়।
আন্তর্জাতিক সহমর্মিতা ও নৈতিক দায়বোধ
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গাজা উপত্যকায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে ভয়াবহতা আজ বিশ্ব প্রত্যক্ষ করছে, তার প্রেক্ষিতে কনসার্ট আয়োজন এখন অনৈতিক ও বিবেকের পরিপন্থী। একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করা দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।
এ প্রসঙ্গে ‘সবার আগে বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’-এর সভাপতি শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং সাধারণ সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, গাজা ও রাফায় ইসরায়েলের অমানবিক হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে আমরা স্বাধীনতার আনন্দ উদ্যাপন স্থগিত করছি। মানবতার এ জটিল মুহূর্তে কনসার্ট আয়োজন আমাদের চেতনাবিরোধী কাজ হতো।
বিশ্বব্যাপী কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি
ফাউন্ডেশনটি জানায়, তারা বিশ্বব্যাপী পালিত ‘World Stops for Gaza’ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে এবং সকল শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে গাজার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে।
ফিলিস্তিন পরিস্থিতি ও বাংলাদেশি প্রতিক্রিয়া
উল্লেখ্য, সম্প্রতি গাজা ও রাফায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় শিশু ও নারীদের লক্ষ্য করে চালানো হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন হাজারো মানুষ। মৃত্যুর মিছিলে যোগ দিচ্ছে অসংখ্য নিরপরাধ নাগরিক। দখলদার বাহিনীর লক্ষ্য যেন পুরো গাজাকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা।
এ পরিস্থিতিকে ঘিরে বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে প্রতিবাদ, মানববন্ধন, মিছিল ও কনসার্ট স্থগিতসহ নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
পরবর্তী ঘোষণা শিগগির
ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন তারিখ ও অনুষ্ঠানসূচি পরবর্তীতে জানিয়ে দেয়া হবে। ফিলিস্তিনের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংগঠনটি সকল বাংলাদেশির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























