বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া
ভারতে বিমান দুর্ঘটনায় ‘শোকাহত’ পাকিস্তান
ভারতের গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় সারা বিশ্বের মতো পাকিস্তানেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) দুপুরে আহমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয় লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ‘ফ্লাইট ১৭১’। বিমানটিতে ২৪২ জন আরোহী ছিলেন—এর মধ্যে ২৩২ জন যাত্রী ও ১০ জন ক্রু।
দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহত ও আহতদের সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করা না হলেও, প্রত্যক্ষদর্শী এবং উদ্ধারকারীদের বরাতে জানা গেছে, এটি ছিলো গত এক দশকে ভারতের সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনাগুলোর একটি।
বিমানটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় থাকা ছাত্রাবাসে আছড়ে পড়ে। এতে বিমানটি মুহূর্তেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় এলাকাজুড়ে প্রচণ্ড শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা অঞ্চল, ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। উদ্ধারকারী দল, দমকল বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা এখনো উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
পাকিস্তানের শোকবার্তা
এ ভয়াবহ ঘটনার পরপরই প্রতিবেশী পাকিস্তানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এক শোকবার্তায় বলেন, আজ আহমেদাবাদের কাছে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। নিহতদের পরিবারের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা। এ হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত সবার জন্য প্রার্থনা করছি।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ টুইট করে জানান, আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। মানবিক বিপর্যয়ের এ মুহূর্তে আমরা ভারতের পাশে আছি।
শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিও। তিনি বলেন, বিপুল প্রাণহানির এ ঘটনার খবর শুনে ব্যথিত। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানাই।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এ দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, কানাডা, পর্তুগালসহ বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে, যাত্রীদের মধ্যে ৫৩ জন ব্রিটিশ, ৭ জন পর্তুগিজ এবং একজন কানাডীয় নাগরিক থাকায় এসব দেশের দূতাবাসও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে।
আরোহীদের জাতিগত বিবরণ
বিমানটিতে থাকা ২৪২ জন আরোহীর মধ্যে—
- ১৬৯ জন ছিলেন ভারতীয় নাগরিক
- ৫৩ জন ব্রিটিশ
- ৭ জন পর্তুগিজ
- ১ জন কানাডিয়ান
- বাকিরা ছিলেন বিভিন্ন দেশের ট্রানজিট যাত্রী ও ক্রু মেম্বার
বিমানবন্দরের সূত্র অনুযায়ী, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই পাইলট ‘ইঞ্জিন ফেইলিওর’ সংকেত পাঠান কন্ট্রোল টাওয়ারে। এরপরই রাডার থেকে হারিয়ে যায় ফ্লাইটটি।
তদন্ত শুরু
ভারতের অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (DGCA) এবং জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) ইতোমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার ও বিশ্লেষণের কাজ শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গভীর শোক প্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে গুজরাট সরকার।
এ দুর্ঘটনা শুধু একটি দেশের নয়, গোটা অঞ্চলের বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিটি শোকবার্তাই এ সত্যকেই পুনঃপ্রতিধ্বনিত করছে—মানবিক দুর্যোগের কোনো সীমান্ত নেই। এখন অপেক্ষা—প্রকৃত সত্য উদঘাটনের এবং আর যেন এমন মৃত্যু-মিছিল দেখতে না হয়, সে নিশ্চয়তার।
সবার দেশ/কেএম




























