ধ্বংসস্তূপে তেল আবিব
ইরানের ভয়ঙ্কর ‘সেজ্জিল’ মিসাইলেই ছিন্নভিন্ন ইসরায়েল!
ইরানের ভয়ঙ্কর পাল্টা হামলায় ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে ইসরায়েলের 'অভেদ্য' প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। আকাশ প্রতিরক্ষায় বিশ্বজুড়ে খ্যাত ‘আয়রন ডোম’, ‘ডেভিডস স্লিং’ ও ‘অ্যারো সিস্টেম’—সবই ব্যর্থ হয়েছে ইরানের ১০০ কোটির ‘সেজ্জিল’ ব্যালিস্টিক মিসাইলের আঘাতে।
যুদ্ধের ষষ্ঠ দিনে ইরান যখন একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে, তখন ইসরায়েল যেন পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েলের বুকে সজোরে আঘাত হেনেছে ইরানের তৈরি সর্বাধুনিক এ মিসাইল। একেকটি সেজ্জিলের দাম ৮.১৩ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১০০ কোটি টাকা। এ মিসাইলের আঘাত এতটাই নিখুঁত যে, শুধু ভবন নয়—ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিও ছিন্নভিন্ন করে ফেলেছে এটি।
সেজ্জিল একটি মিডিয়াম রেঞ্জ, সলিড ফুয়েলযুক্ত ব্যালিস্টিক মিসাইল। এর দৈর্ঘ্য ১৮ মিটার, ওজন ২৩ টন এবং এটি ৭০০ কেজি বিস্ফোরক বহনে সক্ষম। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১০,০০০ কিমি এবং পাল্লা ২৫,০০০ কিমি পর্যন্ত। দ্রুত মোতায়েনযোগ্য এবং রাডার এড়িয়ে আঘাত হানার ক্ষমতা এটিকে করে তুলেছে ইরানের ‘গেম চেঞ্জার’ অস্ত্র।
চলমান সংঘাতে ইরান একযোগে ১৫টিরও বেশি সেজ্জিল মিসাইল ছুড়েছে, যার বেশিরভাগই তেল আবিব, হার্জেলিয়া, বাত ইয়াম ও হাইফার মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক এলাকায় আঘাত হানে। শুধু তেল আবিবেই একটি আবাসিক ভবন ধসে পড়ে প্রাণ হারান অন্তত ৯ জন। সামগ্রিকভাবে সেজ্জিল হামলায় নিহতের সংখ্যা ৩০ ছাড়িয়েছে, আহত দুই শতাধিক, ধ্বংস হয়েছে অন্তত ১০টি ভবন, আর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫০টিরও বেশি স্থাপনা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ হামলা ইরানের মুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়নই নয়, বরং তাদের আক্রমণাত্মক কৌশলেরও উদাহরণ। সেজ্জিল এখন প্রতিরক্ষার নয়, বরং আক্রমণের প্রতীক। শাহেদ ড্রোন আর ব্যালিস্টিক মিসাইলের পর এবার ইরান বিশ্বের সামনে দেখিয়ে দিয়েছে—তাদের প্রতিরোধের ভাষা কতটা মারাত্মক হতে পারে।
ইসরায়েলি বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ছিলো না শুধু একটি পাল্টা আঘাত—বরং একটি কৌশলগত বার্তা। বৃদ্ধির মুখে যুদ্ধ চাপিয়ে দিলে কীভাবে প্রতিশোধে নেমে আসে ইরান, তা সেজ্জিলের প্রতিটি আঘাত প্রমাণ করে দিয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























