নেতানিয়াহুর দেশ মহাবিপদে
ইরানের হামলায় তছনছ ইসরায়েল, প্রাণহানি ৫০০ ছাড়িয়েছে
ইরানের সরাসরি সামরিক প্রতিক্রিয়ায় এখন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েল ভয়াবহ সংকটে। মুসলিম নিধন ও গাজায় গণহত্যার চিত্র এ বার উল্টোভাবে ফিরে এসেছে ইসরাইলের ঘরে।
রাজধানী তেল আবিব থেকে শুরু করে হাইফা, পেতাহ তিকভা ও বাতে ইয়াম—বিভিন্ন শহরের মানুষ হামলার আতঙ্কে বেসমেন্ট ও বোম শেল্টারে পালিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বহু ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ইসরায়েলি নাগরিকরা সন্তানদের কোলে নিয়ে দৌঁড়াচ্ছেন, মাটির নিচে কম আলোযুক্ত কক্ষে বসে রয়েছেন আতঙ্কিত চেহারায়।
ইরানের লাগাতার ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে সরকারি তথ্য ৫০ জনের কথা বললেও, নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা ৪ হাজারেরও বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মর্যাদা হারানোর ভয়ে ইসরায়েল নিহত-আহতের প্রকৃত সংখ্যা গোপন করছে।
এফ-৩৫ ও ড্রোন ভূপাতিত
ইরানের দক্ষিণ-পূর্ব ভারামিন শহরের কাছে একটি ইসরায়েলি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনী। শুক্রবার ভোরে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলার জবাবে এটি ছিলো ইরানের হাতে ভূপাতিত পঞ্চম এফ-৩৫।
এছাড়া ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন জানিয়েছে, ইসফাহান প্রদেশে একটি হেরমেস ড্রোন ভূপাতিত করেছে সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট। এর ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর ইসরায়েলের সেনাবাহিনীও বিষয়টি স্বীকার করতে বাধ্য হয়।
প্রতিরক্ষা দুর্বল হচ্ছে ইসরায়েলের
‘আয়রন ডোম’ ও ‘অ্যারো’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এখন স্পষ্ট। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরানের একের পর এক হামলার জবাবে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে গিয়ে ইসরায়েলের মজুদ প্রায় শেষ পর্যায়ে। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরক্ষা জোরদারে উদ্যোগ নিলেও নিজেরাও সরবরাহ সংকটে পড়ছে।
রুশ ও তুর্কি হুঁশিয়ারি
রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ হুঁশিয়ার করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দিলে মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেন, ইসরায়েল রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে লিপ্ত, এবং ইরানের প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক, আইনি ও বৈধ।
খামেনির ‘আপস না, প্রতিশোধ’ বার্তা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এক্সে বলেন, জায়নবাদীদের প্রতি কোনও দয়া দেখানো হবে না। তিনি ইসরাইলকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, আপস নয়, প্রতিশোধই একমাত্র উত্তর।
পরমাণু স্থাপনা অক্ষত
ইসরায়েলি হামলার পর ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি জানান, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ভালো অবস্থায় আছে এবং কর্মকর্তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
তেলের দামে উত্তেজনার ছায়া
ইরান-ইসরায়েল সংঘাত বিশ্ববাজারেও প্রভাব ফেলেছে। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৭৬.৭১ ডলার এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৭৫.১৯ ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সংকট ঘনীভূত হবে।
ইসরায়েল এখন নিজেই যুদ্ধক্ষেত্র। নেতানিয়াহুর আগ্রাসী নীতির জবাবে ইরান কৌশলগতভাবে পাল্টা প্রতিরোধ শুরু করেছে এবং তাতে ইসরায়েলের নাগরিক, প্রতিরক্ষা ও মর্যাদা—তিনটিই চাপে পড়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক পালাবদলের ইঙ্গিত।
সবার দেশ/কেএম




























