দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক ভারসাম্যে বড় বদল
পঞ্চম প্রজন্মের চীনা যুদ্ধবিমান পাচ্ছে পাকিস্তান, কাঁপছে ভারত
‘অল ওয়েদার ফ্রেন্ড’ হিসেবে পরিচিত চীন এবার পাকিস্তানকে ৪০টি অত্যাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করতে যাচ্ছে। এসব যুদ্ধবিমান শেনইয়াংয়ের তৈরি জে-৩৫ সিরিজের, যা আমেরিকার এফ-৩৫-এর চীনা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত। এতে দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক ভারসাম্য নতুনভাবে ঝুঁকে পড়বে পাকিস্তানের দিকে—এমনটাই আশঙ্কা করছেন ভারতের সামরিক বিশ্লেষকরা।
পাকিস্তান যুক্ত হচ্ছে ‘স্টেলথ ক্লাবে’
বিশ্বে মাত্র গুটিকয়েক দেশের হাতে রয়েছে পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ প্রযুক্তি সমৃদ্ধ যুদ্ধবিমান। চীনের কাছ থেকে জে-৩৫ পেলে পাকিস্তানও সে অভিজাত তালিকায় নাম লেখাবে। বিমানগুলোতে থাকবে রাডার এড়িয়ে চলার ক্ষমতা, সুপারসনিক ক্রুজ, উন্নত সেন্সর নেটওয়ার্ক এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের শক্তিশালী ক্ষমতা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন মূলত তাদের এফসি-৩১ মডেলটির রপ্তানি সংস্করণ পাকিস্তানের হাতে তুলে দিচ্ছে। দ্রুত গতিতে প্রস্তুতি নিয়ে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রথম ব্যাচ পাকিস্তানে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে পাকিস্তানি পাইলটদের ইতোমধ্যেই চীনে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।
ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে অস্বস্তি
ভারতের বিমানবাহিনী এখনও পর্যন্ত নিজেদের হাতে একটি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান পায়নি। দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্র্যাফট’ (AMCA) আসতে সময় লাগবে কমপক্ষে ৯-১০ বছর।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাবেক গ্রুপ ক্যাপ্টেন অজয় আহলাওয়াত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রশিক্ষণ, কৌশল ও প্রযুক্তির দিক দিয়ে পাকিস্তানের থেকে এগিয়ে ছিলো। কিন্তু জে-৩৫ যুক্ত হলে সে ব্যবধান কমে যাবে। পাকিস্তান যদি সত্যিই এ যুদ্ধবিমান হাতে পায়, তবে তা ভারতের জন্য বড় হুমকি হবে।
অন্যদিকে বিমানবাহিনীর সাবেক এয়ার মার্শাল সঞ্জীব কাপুর বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই যদি পাকিস্তান ৪০টি জে-৩৫ পেয়ে যায়, তাহলে আমাদের প্রতিরক্ষানীতিতে বড় পরিবর্তন আনা ছাড়া উপায় থাকবে না। ভারতকে এখনই রাশিয়ার সুখোই-৫৭ এর মতো আধুনিক যুদ্ধবিমান সংগ্রহের বিষয়ে ভাবতে হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, রুশ প্রযুক্তি আমাদের অস্ত্রভাণ্ডারের সঙ্গে ভালোভাবে খাপ খায়, এবং তা সময়ের দাবি মেটাতেও সক্ষম।
চীন-পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ঐক্য আরও জোরদার
চীনের এ সিদ্ধান্ত কেবল অস্ত্র সরবরাহ নয়, বরং এক ধরনের স্ট্র্যাটেজিক বার্তাও বহন করে। একদিকে ভারত যখন কোয়াড জোটের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক মজবুত করছে, অন্যদিকে চীন পাকিস্তানকে সামরিক প্রযুক্তির দিক থেকে শক্তিশালী করে তুলছে।
এতে করে ভারতের ‘দুই ফ্রন্ট যুদ্ধ’ বা চীন ও পাকিস্তান উভয় ফ্রন্টে সংঘর্ষের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়ে উঠছে।
পাকিস্তানের হাতে জে-৩৫ পৌঁছালে তা হবে দক্ষিণ এশিয়ার যুদ্ধক্ষমতা ও কৌশলগত ভারসাম্যের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন। শুধু যুদ্ধবিমান নয়, এর সঙ্গে থাকবে নজরদারি, রাডার জ্যামিং, ও সাইবার ওয়ারফেয়ার সক্ষমতা—যা ভবিষ্যতের যুদ্ধে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠবে।
ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এখনই সক্রিয় হতে হবে। শুধু বিমান সংগ্রহ নয়, বরং গোটা প্রতিরক্ষা নীতিকে নতুন বাস্তবতায় মানিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নিতে হবে—তা না হলে পাকিস্তানের কৌশলগত অগ্রগতি বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























