ইরানে বোমা ফেলা ইসরায়েলি পাইলট
‘আকাশ থেকে দেখা মনোমুগ্ধকর তেহরান, একদিন যেতে চাই’
ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় বোমা ফেলে ফেরার সময় তেহরান শহর দেখে মুগ্ধ হয়েছেন এক ইসরাইলি পাইলট। ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর ওই রিজার্ভ নেভিগেটর বলেন, সুযোগ পেলে তিনি একদিন ইরানের রাজধানীতে যেতে চান। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ‘এ’ নামের ওই পাইলট এসব কথা বলেছেন ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুসালেম পোস্ট-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে।
সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চালানো ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’-এ অংশ নেন তিনি। অভিযানে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরায়েল।
‘এ’ বলেন, ৩০ হাজার ফুট ওপর থেকে তেহরান দেখে মনে হচ্ছিলো খুব শান্ত, ছবির মতো সুন্দর। পাহাড়গুলো, শহরের আলো, সবকিছুই দারুণ। হয়তো নিচে আতঙ্ক ছড়িয়েছিলো, কিন্তু ওপর থেকে দেখতে শহরটা খুবই সাধারণ, খুবই নির্ভার।
তিনি আরও বলেন, আমরা তো এসব দৃশ্য শুধু ছবিতে দেখি। বাইবেলে বর্ণিত অঞ্চলগুলো উড়ে যেতে যেতে ভাবছিলাম, একদিন যদি নিজ চোখে, মাটিতে দাঁড়িয়ে, এ শহরটা ঘুরে দেখতে পারতাম!

অভিযানের প্রস্তুতি আর বাস্তবতা
পাইলট জানান, ইরান আক্রমণের প্রস্তুতি ইসরায়েল বহু বছর ধরেই নিচ্ছিলো। তবে তারা আশা করতেন, হয়তো তা কখনো বাস্তবে রূপ নেবে না। কিন্তু সম্প্রতি পরিস্থিতি বদলে যায়। তিনি বলেন, আমার ফোনে শুধু একটা ছোট মেসেজ আসে—ভোরবেলায় স্কোয়াড্রনে রিপোর্ট করো। এটা ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক হামলার সময়।
সে সময় তিনি মধ্যপন্থি রাজনৈতিক আন্দোলন ‘ফোর্থ কোয়ার্টার’-এর সম্মেলনে ছিলেন। কিন্তু কাউকে কিছু বলেননি। এমনকি নিজের স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা, সহকর্মীদেরও না। কারণ, সতর্ক করলে পুরো মিশন ভেস্তে যেতে পারতো।
‘এ’ বলেন, সবচেয়ে কঠিন ছিলো নিজের সন্তানদের সামনে স্বাভাবিক থাকার অভিনয়। ভেতরে বুক ধড়ফড় করছিলো, বাইরে আমি ঠান্ডা ছিলাম। আমার স্ত্রী চোখে চোখ রেখে জড়িয়ে ধরেন। বলেন, যা করতেই হয় করো। ওই আলিঙ্গনটাই আমাকে ভেতর থেকে শক্তি দিয়েছে।
অপারেশনের অভিজ্ঞতা
তিনি জানান, অভিযানের ফ্লাইট প্ল্যান ছিলো অত্যন্ত জটিল। আকাশে থেকেই জ্বালানি ভরার ব্যবস্থা ছিলো। পুরো সময়জুড়ে ছিলো প্রায় সম্পূর্ণ রেডিও নীরবতা। কয়েক ঘণ্টার ফ্লাইটেও মনে হচ্ছিলো, মুহূর্তের মধ্যেই সময় কেটে যাচ্ছে।
বিমান থেকে দেখা তেহরানের প্রশান্ত চেহারা তাকে বিস্মিত করে। তিনি বলেন, শহরটা অন্যদের মতোই, শান্ত, স্থির। হয়তো নিচে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিলো, কিন্তু উপর থেকে সে চিত্র দেখা যায়নি। আশা করি, একদিন আমি শান্তিপূর্ণভাবে এ শহরে যেতে পারবো।
ইসরায়েলের অবস্থান
ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতায় বড় ধরনের আঘাত দিয়েছে। যদিও ইরান এ দাবিকে অতিরঞ্জিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
পাইলট ‘এ’ বলেন, এ মিশন ছিলো শুধু প্রতিরোধমূলক নয়, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমরা সবাই জানতাম, এটাই সে সময়।
সবার দেশ/কেএম




























