উদ্বিগ্ন মুসলিম সমাজ
সীমান্তবর্তী আদিবাসীদের অস্ত্রের লাইসেন্স দেবে আসাম সরকার
বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা অঞ্চলে বসবাসকারী আদিবাসীদের অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ভারতের বিজেপিশাসিত আসাম রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এ সিদ্ধান্ত রাজ্যের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কার জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বুধবার (৬ আগস্ট) মুখ্যমন্ত্রী শর্মা একটি নতুন ওয়েবসাইট চালু করার ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে রাজ্যের সংবেদনশীল এলাকায় বসবাসরত এবং নিজেদের জীবনের জন্য হুমকিতে থাকা আদিবাসীরা অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
যদিও ভারতের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন অত্যন্ত কঠোর, তবে হঠাৎ করে এ ধরনের উন্মুক্ত লাইসেন্স দেয়ার উদ্যোগে বিরোধী দলগুলো ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। কংগ্রেসের এমপি গৌরব গগৈ এক্স-এ দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এ সিদ্ধান্ত আসামে গ্যাং সহিংসতা ও প্রতিশোধমূলক অপরাধের সংখ্যা বাড়াবে। তিনি বলেন, এটি কোনো সুশাসনের নিদর্শন নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা ভাঙনের স্পষ্ট আলামত।
ঘোষণার পেছনে ব্যাখ্যা দিয়ে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত অসমীয়া ভাষাভাষী মানুষরা হামলার হুমকির মুখে রয়েছেন— এমনকি নিজেদের গ্রামেও তারা নিরাপদ নন।
উল্লেখ্য, জাতিগত, ভাষাগত ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যে ভরা আসাম রাজ্য গত কয়েক দশকে একাধিক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। সর্বশেষ ২০১১ সালের জনগণনা অনুসারে, রাজ্যের প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ মুসলিম— যাদের অধিকাংশই বাংলাভাষী।
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী শর্মা ইতোমধ্যেই বিতর্কিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছেন, যেখানে অনেককে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ বা ‘সন্দেহভাজন নাগরিক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও বিশ্লেষকরা অভিযোগ করছেন, এই অভিযানগুলো মূলত বাংলাভাষী মুসলিমদের লক্ষ্য করেই পরিচালিত।
তবে আসামে বসবাসরত বহু বাঙালি মুসলমান ও হিন্দু নাগরিক বহু প্রজন্ম ধরে ওই রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা। তাদের পূর্বপুরুষরা দেশভাগের অনেক আগেই আসামে স্থায়ীভাবে বসতি গড়েছিলেন।
এর আগে ২০১৯ সালে ভারতের বিতর্কিত জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) প্রথম চালু হয় আসামে। ওই তালিকা থেকে প্রায় ২০ লাখ মানুষ বাদ পড়েন, যাদের বড় অংশই মুসলিম।
নতুন অস্ত্রনীতিকে ঘিরে এ উত্তপ্ত আবহে আশঙ্কা বাড়ছে, রাজ্যের ভেতরে আরেক দফা জাতিগত-ধর্মীয় উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























