Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৩০, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের মাথাব্যথা আরও বাড়ালো নেপাল

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের মাথাব্যথা আরও বাড়ালো নেপাল
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রতিবেশী নেপালে ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন করে চাপে ফেলছে নয়াদিল্লিকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা জারির পর শুরু হওয়া গণবিক্ষোভে ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। সহিংসতা ও জনরোষের মুখে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করেছেন, দেশজুড়ে কারফিউ জারি রয়েছে এবং সেনাবাহিনী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।

বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবন ও একাধিক নেতার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়, যা শ্রীলঙ্কার ২০২২ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং গত বছরের বাংলাদেশ আন্দোলনের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতা ভারতের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে, কারণ অলি দিল্লি সফর শেষে মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় পদত্যাগ করলেন।

সীমান্ত ও কৌশলগত সংযোগ

ভারতের উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ মিলে নেপালের সঙ্গে রয়েছে ১,৭৫০ কিলোমিটার সীমান্ত। এ সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে, আর দুই দেশের জনগণ ভিসা ছাড়াই একে অপরের দেশে কাজ ও বসবাস করতে পারে। প্রায় ৩৫ লাখ নেপালি ভারতে থাকেন, কাজ করেন এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ৩২ হাজার গুর্খা সৈন্য চাকরি করছেন।

অর্থনৈতিকভাবে কাঠমান্ডু ভারতীয় আমদানির ওপর নির্ভরশীল—বিশেষত তেল ও খাদ্যের জন্য। দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্য ৮.৫ বিলিয়ন ডলার। সীমান্ত ঘনিষ্ঠতার কারণে নেপালে অস্থিরতা সরাসরি ভারতের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে।

দিল্লির অস্বস্তি

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেপালের সহিংসতায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং শান্তি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি মন্ত্রিসভার সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের জন্য পরিস্থিতি ‘অস্বস্তিকর’, কারণ নেপালের তিন প্রধান রাজনৈতিক দল—অলির সিপিএন-ইউএমএল, দেউবার নেপালি কংগ্রেস এবং পুষ্প কমল দহলের মাওবাদী কেন্দ্র—তিনটির সঙ্গেই দিল্লির সম্পর্ক রয়েছে, অথচ তিন দলের বিরুদ্ধেই বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ প্রবল।

চীন ফ্যাক্টর

নেপালের ভূকৌশলগত অবস্থান ভারত-চীন প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু। চীনের ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড নেপালের সীমান্তের ওপারেই অবস্থিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাঠমান্ডু বেইজিংয়ের কাছ থেকে অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি পেয়েছে, আর ভারত-নেপাল সম্পর্ক নানা সময়ে টানাপোড়েনে পড়েছে। ২০১৯ সালে ভারতের নতুন মানচিত্রে নেপালের দাবি করা এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হলে দুই দেশের সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়।

আঞ্চলিক প্রভাব

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) কার্যত অচল। পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খারাপ, মিয়ানমার গৃহযুদ্ধে নিমজ্জিত, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক শীতল। এখন নেপালের সঙ্কট নতুন করে ভারতের কূটনীতিকে চ্যালেঞ্জে ফেলছে।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল অশোক মেহতা বলেন, 

ভারত সুপার পাওয়ার হতে চাইছে, কিন্তু সুপার পাওয়ার হওয়ার জন্য নিরাপদ ও স্থিতিশীল প্রতিবেশী প্রয়োজন। নেপালের অস্থিরতা ভারতের জন্য বড় হুমকি।

সূত্র: বিবিসি

সবার দেশে/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

খামেনি হত্যার প্রতিশোধের লাল পতাকা উড়ালো ইরান
ইসরায়েলি হামলায় কেঁপে উঠলো ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন
চরাঞ্চলের অর্থনীতিতে ভরসা প্রাণিসম্পদ খাত, সেবার সংকটে শঙ্কা
রাষ্ট্রপতির অভিশংসনেই সংসদের যাত্রা শুরু হোক: আসিফ
ইরানে হামলার তীব্র নিন্দা জামায়াত আমিরের
রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করে গ্রেফতারের দাবি নাহিদ ইসলামের
যুক্তরাষ্ট্রে রাতভর গোলাগুলি, নিহত ৩, আহত ১৪
ভারত থেকে দেশে ফিরলো আওয়ামী এমপির লাশ
যশোরে জেলা জজ পদশূন্য, ভারপ্রাপ্ত জজের ওপর অনাস্থা
খামেনিকে হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
কোকো ভাইয়ের অবদান তুলে ধরতে পারিনি—অনুশোচনায় তামিম
হরমুজ প্রণালি বন্ধে বিশ্ব তেলবাজার টালমাটাল-দাম লাফিয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি
জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল প্রশাসনের ওপর গুরুত্বারোপ
বীরগঞ্জে ২ মাদক সেবীর কারাদণ্ড
খাগড়াছড়িতে আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদ নির্বাচনসহ ৭ দফা দাবিতে স্মারকলিপি
আধিপত্যবাদের নগ্নরূপ: আক্রান্ত ইরান ও সভ্যতার সংকট
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ নিহত: রিপোর্ট
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র চুরমার করলো ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা, নিহত ৮