ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্রের জন্য লড়াইয়ের স্বীকৃতি
শান্তিতে নোবেল পেলেন মারিয়া কোরিনা মাচাদো
ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। শুক্রবার (১ অক্টোবর) নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নোবেল কমিটি তার নাম ঘোষণা করে জানায়, দেশের জনগণকে গণতন্ত্রের পথে উদ্বুদ্ধ করা ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়ার জন্যই এ পুরস্কার দেয়া হয়েছে মাচাদোকে।
নোবেল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়,
ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারে মারিয়া কোরিনা মাচাদো এক অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। তিনি শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধের মাধ্যমে নাগরিকদের সংগঠিত করেছেন এবং একটি মুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সাহসী নেতৃত্ব দিয়েছেন।
ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই মাচাদো একজন দৃঢ়চেতা বিরোধী কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে তিনি বারবার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কারাবন্দি সহকর্মীদের মুক্তি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি তার রাজনৈতিক কর্মসূচির মূল ভিত্তি।
চলতি বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের আলোচনায় ছিলেন আরও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সংগঠন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ছিলেন সে আলোচনার অন্যতম নাম। তিনি নিজেও পুরস্কারটি পাওয়ার ব্যাপারে প্রকাশ্যে আগ্রহ দেখান। তবে শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের শান্তিপূর্ণ সংগ্রামের প্রতীক হিসেবেই বিজয়ী হয়েছেন মারিয়া কোরিনা মাচাদো।
নোবেল কমিটি জানায়, ২০২৫ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মোট ৩৩৮টি মনোনয়ন জমা পড়েছিলো। এর মধ্যে ২৪৪টি ব্যক্তিগত এবং ৯৪টি সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে।
মারিয়া কোরিনা মাচাদোর এ জয়কে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এ অর্জন দেশটির গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সরকারের ওপর চাপ বাড়াবে নাগরিক অধিকারের প্রতি সম্মান জানাতে।
সবার দেশ/কেএম




























