Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:৪৮, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

সুপ্রিম কোর্টকে ‘ক্ষমতাহীন’ করার অভিযোগ

সঙ্কটে পাকিস্তান, দুই বিচারপতির পদত্যাগ

সঙ্কটে পাকিস্তান, দুই বিচারপতির পদত্যাগ
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থা এক গভীর সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়েছে। দেশের সংসদে বৃহস্পতিবার পাস হওয়া ‘২৭তম সংবিধান সংশোধনী বিল’ শুধুমাত্র সেনাপ্রধানের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করেনি, বরং সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক কর্তৃত্বকেও বড় পরিসরে সীমিত করে দিয়েছে। 

এ বিতর্কিত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি—মনসুর আলি শাহ এবং আথাহার মিনাল্লাহ—নিজ নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং তাদের ইস্তফাপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দিয়েছেন।

নতুন সংশোধন অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের ঊর্ধ্বে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে ‘ফেডারেল কনস্টিটিউশন কোর্ট’ (FCC)। পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি এ আদালতের প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেবেন এবং নাম প্রস্তাব করবেন প্রধানমন্ত্রী। আদালতের অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়োগও সরকারের হাতে থাকবে। এ ব্যবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা কার্যত সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

পাঁচ পৃষ্ঠার ইস্তফাপত্রে বিচারপতি মনসুর আলি শাহ লিখেছেন, সংশোধনীটি পাকিস্তানের সাংবিধানিক কাঠামোর উপর সরাসরি আঘাত এবং বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট ষড়যন্ত্র। তার ভাষায়, এমন আদালতে তিনি থাকতে পারবেন না যেখানে সুপ্রিম কোর্টকে তার সাংবিধানিক ভূমিকা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তিনি সংশোধনীটিকে ‘সংবিধানের ওপরে ভয়াবহ আঘাত’ বলে উল্লেখ করেন।

নতুন ব্যবস্থায় প্রাদেশিক সরকারের যেকোনো অভ্যন্তরীণ সমস্যা, সাংবিধানিক বিরোধ, মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত মামলা, উচ্চ আদালতের সাংবিধানিক বিষয়ে আপিল—সবই সমাধান করবে FCC। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার সীমাবদ্ধ থাকবে শুধুমাত্র ক্রিমিনাল ও সিভিল মামলা পর্যন্ত।

এ ছাড়া হাইকোর্ট বিচারপতিদের বদলির ক্ষেত্রে আর তাদের মতামত নেয়া হবে না। কোনও বিচারপতি বদলিতে আপত্তি জানালে সরাসরি ইস্তফা দিতে বলা হবে—এমন বিধানও যুক্ত হয়েছে সংশোধনীতে।

বহুদিন ধরেই পাকিস্তানের নাগরিক সমাজ, আইনজীবী সংগঠন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছিলেন যে এ সংশোধনী বিচারব্যবস্থাকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে এনে গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল করবে। সুপ্রিম কোর্ট এতোদিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ‘চেক অ্যান্ড ব্যালান্স’ হিসেবে কাজ করত। নতুন ব্যবস্থায় সে ক্ষমতা আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

দুই বিচারপতির একযোগে পদত্যাগে পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থাকে ঘিরে আরও বড় ধরনের সঙ্কটের ইঙ্গিত মিলছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। অনেকেই এটিকে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অস্তিত্বের জন্য অশনিসংকেত বলে অভিহিত করছেন।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন