শোক প্রকাশ মোদির
ভারতে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা, জীবন্ত দগ্ধ ৯
ভারতের কর্ণাটকের চিত্রদুর্গ জেলায় একটি যাত্রীবাহী স্লিপার বাসের সাথে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে ৪৮ নম্বর জাতীয় সড়কের হিরিউর তালুকের গোরলাথু গ্রামের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বাসের ভেতরে থাকা অন্তত ৯ জন যাত্রী জীবন্ত দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও ২১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
যেভাবে ঘটলো দুর্ঘটনা
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, 'সিবার্ড কোচ' নামক বেসরকারি স্লিপার বাসটি ৩২ জন যাত্রী নিয়ে বেঙ্গালুরু থেকে গোকর্ণের দিকে যাচ্ছিলো। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী কন্টেইনার ট্রাক হঠাৎ সড়কের ডিভাইডার ভেঙে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি বাসটিকে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের ফলে বাসের জ্বালানি ট্যাঙ্ক ফেটে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো বাসটিতে আগুন ধরে যায়। গভীর রাতে অধিকাংশ যাত্রী ঘুমন্ত অবস্থায় থাকায় তারা বের হওয়ার সুযোগ পাননি।
উদ্ধার অভিযান ও হতাহত
ঘটনার পরপরই স্থানীয় পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। বাসের চালক ও হেল্পার লাফিয়ে বের হতে পারলেও ভেতরে থাকা অনেক যাত্রী আটকা পড়েন। আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হিরিউর এবং তুমাকুরু শহরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় ট্রাকের চালকও নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অল্পের জন্য রক্ষা পেল স্কুলবাস
এ ভয়াবহ দুর্ঘটনার কয়েক মুহূর্ত পরই একই পথ দিয়ে ৪৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে একটি স্কুলবাস যাচ্ছিলো। তবে চালকের উপস্থিত বুদ্ধির কারণে স্কুলবাসটি দুর্ঘটনাকবলিত বাসের সাথে সংঘর্ষ এড়িয়ে রাস্তার অন্য পাশে চলে যায়, ফলে বড় ধরনের আরেকটি বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায় শিক্ষার্থীরা।
প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর শোক
এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO) থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকে ২ লাখ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। এছাড়া কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
এ দুর্ঘটনার ফলে ৪৮ নম্বর জাতীয় সড়কে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























