Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:১২, ৬ জানুয়ারি ২০২৬

দ্য টাইমস এর প্রতিবেদন

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণহীন হলে মস্কোতে আশ্রয়ের প্রস্তুতি খামেনির

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণহীন হলে মস্কোতে আশ্রয়ের প্রস্তুতি খামেনির
ফাইল ছবি

ইরানে চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দেশ ছেড়ে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে আশ্রয় নেয়ার বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। একটি পশ্চিমা গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ দমনে ব্যর্থ হয় কিংবা খামেনির প্রতি তাদের আনুগত্যে ভাঙন দেখা দেয়, সে পরিস্থিতির জন্য ‘প্ল্যান বি’ হিসেবে দেশত্যাগের প্রস্তুতি রয়েছে। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, খামেনি তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী, পরিবারের সদস্য এবং সর্বোচ্চ ২০ জনের একটি ছোট দল নিয়ে ইরান ত্যাগ করে রাশিয়ায় আশ্রয় নিতে পারেন। এ দলে তার ছেলে ও সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী মোজতবা খামেনিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, খামেনি ও তার ঘনিষ্ঠ মহল ইতিমধ্যে তেহরান ছাড়ার একটি নির্দিষ্ট ‘এক্সিট রুট’ চিহ্নিত করেছেন। পাশাপাশি বিদেশে থাকা সম্পদ, সম্পত্তি ও নগদ অর্থ সংগঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত এবং নিরাপদভাবে দেশত্যাগ সম্ভব হয়।

পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে টানা ১২ দিনের সংঘাতের পর খামেনির শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। ওই সংঘাতের পর থেকে তিনি আগের তুলনায় বেশি দুর্বল ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে তাকে অতিমাত্রায় সন্দেহপ্রবণ বা প্যারানয়েড নেতা হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে, যা তার মধ্যে সম্ভাব্য পালানোর পরিকল্পনা জোরদার করেছে।

তবে প্রতিবেদনে এটিও বলা হয়, আদর্শগতভাবে খামেনি অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থানে থাকলেও পরিস্থিতি মূল্যায়নে তিনি বাস্তববাদী। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনের জন্য কৌশলগত সমঝোতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রবণতা তার নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। নিজেকে তিনি একজন দীর্ঘমেয়াদি চিন্তক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন বলেও বিশ্লেষণে উল্লেখ রয়েছে।

ইরানে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক চাপ এবং জনবিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এ প্রতিবেদন দেশটির ক্ষমতার ভবিষ্যৎ, নেতৃত্বের স্থায়িত্ব এবং শাসনব্যবস্থার ভেতরের দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

সবার দেশ/কেএম

সর্বশেষ