আটলান্টিকে নাটকীয় অভিযান
রুশ-পতাকাবাহী তেল ট্যাংকার জব্দ করলো যুক্তরাষ্ট্র
আটলান্টিক মহাসাগরে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধাওয়া করার পর ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি রুশ-পতাকাবাহী তেল ট্যাংকার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়া জাহাজটি রক্ষায় সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই এ অভিযান চালানো হয়, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইউরোপীয় কমান্ড (ইউকোম) সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে। বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, স্বরাষ্ট্র সুরক্ষা বিভাগ এবং প্রতিরক্ষা বিভাগ যৌথভাবে দেশটির নিষেধাজ্ঞা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ট্যাংকারটি জব্দ করেছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মেরিনেরা’ নামের ট্যাংকারটিতে যখন মার্কিন কোস্ট গার্ড সদস্যরা ওঠেন, তখন আশপাশে কোনো রুশ নৌযানের উপস্থিতি ছিলো না। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার বাহিনীর মধ্যে সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা এড়ানো সম্ভব হয়।
তবে এর আগে রয়টার্স জানায়, অভিযানের সময় জাহাজটির আশপাশের এলাকায় একটি রুশ সাবমেরিন ও একটি যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করছিলো। দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, রুশ নৌযানগুলো ওই অঞ্চলে থাকলেও অভিযানস্থলের ঠিক কতটা কাছাকাছি ছিলো—তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। আইসল্যান্ডের কাছাকাছি এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে জানানো হয়।
বিবিসি সিবিএসের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, জাহাজটি বর্তমানে তেল বহন না করলেও অতীতে এটি ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল পরিবহনে ব্যবহৃত হতো। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাতে ট্যাংকারটি স্কটল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের মধ্যবর্তী সাগর এলাকায় অবস্থান করছিলো।
ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যেসব তেলবাহী জাহাজ দেশটিতে যাতায়াত করছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে গত মাসে ‘নৌ অবরোধ’ জারির নির্দেশ দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলা সরকার এ পদক্ষেপকে সরাসরি ‘চুরি’ হিসেবে আখ্যা দেয় এবং এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
এদিকে গত শনিবার ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করার ঘটনার আগেই ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগ করে আসছিলো, ভেনেজুয়েলার সরকার জাহাজ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত মাসে ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন কোস্ট গার্ড প্রথমে ‘বেলা ১’ নামের ওই জাহাজে তল্লাশির চেষ্টা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিলো, জাহাজটি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ইরানি তেল পরিবহন করেছে। তল্লাশি ব্যর্থ হওয়ার পর জাহাজটি হঠাৎ করে গতিপথ পরিবর্তন করে এবং নিজের নাম বদলে ‘মেরিনেরা’ রাখে। একই সঙ্গে এটি গায়ানা থেকে রাশিয়ার পতাকায় পুনঃনিবন্ধিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এ জব্দ অভিযান শুধু একটি তেল ট্যাংকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নয়; বরং ভেনেজুয়েলা, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের নতুন অধ্যায়, যা আগামী দিনে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন প্রশ্নে আরও বড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























