Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:২৬, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

নিউইয়র্ক টাইমসকে ট্রাম্পের আগ্রাসী ঘোষণা

আন্তর্জাতিক আইন নয়, আমার নৈতিকতাই যথেষ্ট

আন্তর্জাতিক আইন নয়, আমার নৈতিকতাই যথেষ্ট
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক আইনকে কার্যত উপেক্ষা করেই বৈশ্বিক রাজনীতিতে আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর হাতে অপহরণের ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে যখন তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে, ঠিক তখনই ট্রাম্প দাবি করেছেন—তাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কোনও আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই, তার নিজস্ব নৈতিকতাই যথেষ্ট।

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তার আন্তর্জাতিক আইনের দরকার নেই এবং তিনি কাউকে আঘাত করতে চান না। আন্তর্জাতিক আইন মানা তার জন্য বাধ্যতামূলক কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি আইন মানেন, তবে সেটা আন্তর্জাতিক আইন বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে।

গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে আকস্মিক সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে। ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’ নামে পরিচালিত এ অভিযানে ২৪ জন ভেনেজুয়েলান এবং ৩২ জন কিউবান নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হন বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে মাদুরো নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে মাদক–সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি।

জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী কোনও রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এ অভিযানের ব্যাখ্যা দিয়েছে ভিন্নভাবে। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি ‘আইন প্রয়োগকারী অভিযান’। ট্রাম্প নিজেই ঘোষণা করেছেন, তিনি ভেনেজুয়েলার শাসনভার নিয়ন্ত্রণে নেবেন এবং দেশটির বিশাল তেলসম্পদের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করবেন।

এমনকি ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে সরাসরি হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি যদি যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ না করেন, তবে তাকে মাদুরোর চেয়েও বড় মূল্য দিতে হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এ নীতি কেবল ভেনেজুয়েলাকে ঘিরেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি ইতোমধ্যে কলম্বিয়ার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। পাশাপাশি ডেনমার্কের মালিকানাধীন গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রচেষ্টা জোরদার করেছেন। গত জুনে ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলার নির্দেশ দেয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

হোয়াইট হাউসের প্রভাবশালী উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার ট্রাম্পের এ অবস্থানকে সমর্থন করে সিএনএনকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি পরাশক্তি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে দেশটি পরাশক্তির মতোই আচরণ করবে। তার ভাষায়, বিশ্ব চলে শক্তি ও ক্ষমতার নিয়মে।

এ অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার মার্গারেট স্যাটারথওয়েট আল–জাজিরাকে বলেন, আন্তর্জাতিক আইনকে এভাবে অবজ্ঞা করা অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা। তার আশঙ্কা, বিশ্ব আবারও সাম্রাজ্যবাদের যুগে ফিরে যেতে পারে।

অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরাও সতর্ক করে বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতি চীনকে তাইওয়ানের ওপর আরও আগ্রাসী হতে এবং রাশিয়াকে ইউক্রেন দখলের পথে আরও উৎসাহিত করতে পারে। বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে তাই নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পূজার ছুটিতেও চালু থাকবে পোশাক কারখানা
ককরোচ পার্টির পক্ষে রায় দিলো দিল্লি হাইকোর্ট
হরমুজে জাহাজডুবি, সাগরে ভাসছে আইফোন ও দামি সুগন্ধি
সাজেক পর্যটকদের জন্য উম্মুক্ত, অবরোধ স্থগিত
হাইতিতে জাতিসংঘ মিশনে সেনাবাহিনীর ৫০ সদস্য
ক্ষমা চেয়েও রেহাই নেই, ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন
ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না ৮ শ্রেণির পরিবার
ডেঙ্গুতে এক দিনে ১০ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৪৩
স্কুলে মারামারি: স্বামী-স্ত্রী দুই শিক্ষককে বদলির সুপারিশ
ইয়েমেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৪
নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা
‘যৌনাঙ্গে বুট দিয়ে মেরেছে’- দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ
বিক্ষোভে অংশ নেয়ায় ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ