যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি অস্ত্র উদ্ধার
ইরানে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর আস্তানা ধ্বংস
ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান ও বালুচিস্তান প্রদেশে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট একাধিক সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর আস্তানা ধ্বংস করেছে দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি সামরিক মানের অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
আইআরজিসির অফিসিয়াল সংবাদমাধ্যম সেপাহ নিউজ জানায়, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পৃক্ত এসব সন্ত্রাসী পূর্ব সীমান্ত দিয়ে গোপনে ইরানে প্রবেশ করে প্রাদেশিক রাজধানী জাহেদানের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত সাতটি পৃথক আস্তানায় অবস্থান নেয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আইআরজিসি স্থলবাহিনীর কুদস ঘাঁটি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রাদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে একটি বড় ধরনের যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে এসব আস্তানা শনাক্ত করে একে একে ধ্বংস করা হয়।
নিরাপত্তা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি একাধিক সামরিক মানের অস্ত্র, বিস্ফোরক ডিভাইস এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এসব গোষ্ঠীর সদস্যরা বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি ও কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিল এবং ইরানের ভেতরে নাশকতা, সহিংস হামলা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছিলো।
এদিকে একই প্রদেশে ইরানের সীমান্ত পুলিশ পৃথক এক অভিযানে অস্ত্র চোরাচালানের একটি বড় চালান জব্দ করেছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, উদ্ধার করা অস্ত্রগুলো দেশজুড়ে সাম্প্রতিক সহিংস দাঙ্গা ও নাশকতায় জড়িত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিলো।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের তালিকায় রয়েছে ২১টি পিস্তল, চারটি কালাশনিকভ অ্যাসল্ট রাইফেল, দুটি শিকারি রাইফেল এবং মোট ২ হাজার ৫১৬ রাউন্ড তাজা গুলি। এ ঘটনায় অস্ত্র পাচারের সঙ্গে জড়িত দুই চোরাকারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অস্ত্র বহনে ব্যবহৃত তাদের গাড়িটিও জব্দ করা হয়।
দেশজুড়ে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও বিদেশি মদদপুষ্ট দাঙ্গার বিরুদ্ধে সোমবার রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থল ঐতিহাসিক ইনকিলাব স্কয়ারে কয়েক মিলিয়ন মানুষের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। একই ধরনের বৃহৎ জনসমাবেশ ইরানের বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলেও দেখা গেছে, যেখানে বিদেশি হস্তক্ষেপ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক দাঙ্গা ও সন্ত্রাসী হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ বহু সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইরানি সরকার সোমবার থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।
ইরানি কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, তেল ও ব্যাংকিং খাতকে লক্ষ্য করে আরোপিত একতরফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটিতে অর্থনৈতিক চাপ ও জনঅসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তবে তাদের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ ও বৈধ প্রতিবাদ এবং সহিংস দাঙ্গা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এক বিষয় নয়। রাষ্ট্র শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার স্বীকার করলেও সহিংসতা ও বিদেশি মদদপুষ্ট তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে তেহরান।
সবার দেশ/কেএম




























