দুর্গম পাহাড়ে চলছে কঠিন উদ্ধার অভিযান
ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ ভূমিধসে প্রাণহানি ১০, নিখোঁজ ৮০
সিরিজ বৃষ্টি ও পাহাড়ধসের তাণ্ডবে ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। এ ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৮০ জন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকে পড়াদের উদ্ধারে ড্রোন, প্রশিক্ষিত কুকুর ও বিপুলসংখ্যক উদ্ধারকর্মী নিয়ে অভিযান চালাচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ভোরে রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে পশ্চিম বান্দুং জেলার পাসির লাঙ্গু গ্রামে এই ভয়াবহ ভূমিধস ঘটে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আগের দিন থেকেই শুরু হওয়া টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম ও নড়বড়ে হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে জঙ্গল ও পাহাড়ি ঢাল থেকে বিশাল অংশ ধসে পড়ে গ্রামটির ওপর।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছে, পশ্চিম জাভাসহ দেশের আরও কয়েকটি অঞ্চলে আগামী এক সপ্তাহ ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে নতুন করে ভূমিধস ও বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিকূল আবহাওয়া ও ভৌগোলিক পরিস্থিতি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কম্পাস টিভি জানিয়েছে, পাহাড়ি এলাকার মাটি এতটাই নরম যে প্রথম দিন উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারেননি। দ্বিতীয় দিনের মতো অনুসন্ধান অভিযান চললেও কর্দমাক্ত মাটি ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকর্মীদের চরম বেগ পেতে হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, ধসে পড়া মাটি ও পাহাড়ি জঙ্গল থেকে নেমে আসা ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারেন। ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বহু বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অবনতির কারণে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা আগে কখনও এতো বড় মাত্রার ভূমিধস দেখেননি। ৩৬ বছর বয়সী দেদি কুর্নিয়াওয়ান রয়টার্সকে বলেন, অতীতে এ এলাকায় মাঝেমধ্যে নদীতে সামান্য বন্যা হলেও এবার পাহাড়ের জঙ্গল থেকে নেমে আসা কাদা ও মাটি পুরো জনপদকে গ্রাস করেছে।

এদিকে জাকার্তা ও পশ্চিম জাভার বিস্তীর্ণ নিচু এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। মাত্র দুই মাস আগেই সুমাত্রা দ্বীপে ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিধসে প্রায় এক হাজার ২০০ মানুষের মৃত্যুর ঘটনার ধাক্কা সামলাতে না পারতেই নতুন এ দুর্যোগ দেশটিকে বড় মানবিক সংকটের মুখে ফেলেছে।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, নিখোঁজদের অবস্থান শনাক্তে ড্রোন ও বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে উদ্ধার অভিযান পুরোপুরি সফল করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং জরুরি ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সরকার পশ্চিম জাভার দুর্গত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
সবার দেশ/কেএম




























