মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হুমকি ইরানের
মার্কিন স্থাপনার আশপাশ থেকে জনতাকে সরে যাওয়ার আহ্বান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। এবার অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ও শিল্প স্থাপনাগুলোকে ঘিরে নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
শনিবার (১৩ মার্চ) প্রকাশিত এক কঠোর বিবৃতিতে আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তাদের শিল্পকারখানা সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে যেসব বাণিজ্যিক বা শিল্প স্থাপনায় আমেরিকানদের মালিকানা, বিনিয়োগ বা অংশীদারত্ব রয়েছে—সেসব স্থাপনার আশপাশ থেকে দ্রুত সরে যেতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য যেকোনও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আগাম সতর্কতা হিসেবে এ আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে—এমন ইঙ্গিতও দেয়া হয়েছে বার্তায়।
গত কয়েকদিন ধরে ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। তেহরানের দাবি, এসব হামলায় দেশটির বেশ কয়েকটি অসামরিক কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রাণ হারিয়েছেন একাধিক শ্রমিক।
ইরান সরাসরি এ হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে। তেহরান ইতোমধ্যেই সতর্ক করে বলেছে, ইরানের জ্বালানি খাত বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর আঘাত এলে তার কঠোর জবাব দেয়া হবে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও একই ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যদি ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা আমেরিকান কোম্পানি বা তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনও স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, রেভল্যুশনারি গার্ডের সর্বশেষ বার্তাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এতে শুধু মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নয়, বরং আমেরিকানদের বিনিয়োগ বা শেয়ার রয়েছে—এমন বেসরকারি শিল্প ও বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলোকেও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
তাদের মতে, সংঘাত যদি আরও তীব্র আকার ধারণ করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ব্যবসায়িক স্বার্থ বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এতে শুধু নিরাপত্তা পরিস্থিতিই নয়, আঞ্চলিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: সিএনএন
সবার দেশ/কেএম




























