Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:২৬, ১৯ জুলাই ২০২৫

হাতিরঝিলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দৃপ্ত উচ্চারণ

‘নাটক কম করো পিও’: ড্রোনে লেখা প্রতিবাদের আগুন

‘নাটক কম করো পিও’: ড্রোনে লেখা প্রতিবাদের আগুন
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে এবার ব্যতিক্রমী উদ্যোগে রাজধানীর হাতিরঝিলে পালিত হলো ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিরোধ দিবস’। ১৮ জুলাই শুক্রবার সন্ধ্যায় অ্যাম্পিথিয়েটার জুড়ে একসঙ্গে জড়ো হয় দেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। চলচ্চিত্র, সংগীত এবং সবশেষে প্রতিবাদের ড্রোন শো—সব মিলিয়ে যেন এক নতুন সাংস্কৃতিক বিদ্রোহ।

‘নাটক কম করো পিও’—ড্রোন শোয়ে তীব্র বার্তা

ড্রোন শো-এর শেষাংশে রাতের আকাশে ভেসে ওঠে ছাত্রসমাজের প্রতিবাদের বহুল উচ্চারিত বাক্য ‘নাটক কম করো পিও’। পিও (পাবলিক ইনফরমেশন অফিসার) বা সরকারের তথ্যমাধ্যম ও প্রপাগান্ডা নিয়ন্ত্রকদের উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের এ বক্তব্য মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। শুধু এই বার্তাই নয়, আকাশে লেখা হয়—

  • ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’
  • ‘Justice will be served’
  • ‘Heroes Without Capes’

-যা উপস্থিত হাজারো দর্শককে আবেগে-ক্ষোভে একাকার করে তোলে।

চলচ্চিত্র ও সংগীত: আন্দোলনের দলিল

অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর প্রদর্শিত হয় দুইটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র—

  • ‘Heroes Without Capes: Private University in July’
  • ‘You Failed to Kill Abrar Fahad’

এ চলচ্চিত্রগুলোতে দেখা যায় কিভাবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্রসমাজ তৎকালীন দমনমূলক আইনের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আসে, কিভাবে ব্র্যাক, নর্থ সাউথ, ইস্ট-ওয়েস্ট, ইউআইইউ, ড্যাফোডিলসহ দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকারের নিপীড়নের বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

এরপর মঞ্চে আসে ব্যান্ড দল আর্টসেল, রেপার কালেক্টিভ, এবং কণ্ঠশিল্পী তাশফি, সানি ও সেজান। তারা পরিবেশন করেন ‘জুলাইয়ের গান’, আন্দোলনভিত্তিক সংগীত যা একসঙ্গে মঞ্চ ও শ্রোতাদের জড়ায় ‘স্মরণ’ ও ‘প্রতিরোধ’—দুই সুরে।

শহীদ পরিবার ও বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শিক্ষার্থী তানভীর, মুনজের, অন্বেষার পরিবারের সদস্যরা। তাদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হলেও ছিল দৃঢ় প্রত্যয়—শিক্ষার্থীদের ত্যাগ বৃথা যাবে না, বিচার হবেই।

রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট

অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা, মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক শিক্ষাবিদেরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, এ প্রতিরোধ প্রজন্মই আগামী বাংলাদেশের রূপকার। আজকের এ হাতিরঝিল—একটি বিদ্রোহী ক্যাম্পাসে রূপ নিয়েছে। কোনো ব্যারিকেডই আর ওদের থামাতে পারবে না।

এ প্রতিরোধ দিবস ছিল শুধু স্মরণ নয়, ছিলো ভবিষ্যতের শপথ। হাতিরঝিলের আকাশে ভেসে থাকা ড্রোনের আলোক-লিপি যেনো বলে গেলো—এ প্রজন্ম নাটক বুঝে, সত্য চায়, এবং ন্যায়বিচার আদায় করেই ছাড়ে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন