তালিকা করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ওসি–এসপিদের বিরুদ্ধে মামলা
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যেসব থানা এলাকায় ছাত্র–জনতা নিহত হয়েছেন, সেসব থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) থেকে শুরু করে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরি করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
তালিকা চূড়ান্ত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ।
তিনি বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে যেসব থানার অধীনে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে, সেসব থানার ওসি, এসপি এবং তদূর্ধ্ব কমান্ডিং অফিসারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এ তালিকা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। এবার আর কোনও ধরনের গড়িমসি বা টালবাহানা চলবে না।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর দমন–পীড়নের মুখে পড়ে। সহিংসতা ও প্রাণহানির মধ্য দিয়ে সে আন্দোলন একপর্যায়ে গণ–অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় ক্ষমতাচ্যুত হয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান।
অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই হত্যাকাণ্ডসহ আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে। ইতিমধ্যে একটি মামলায় শেখ হাসিনা ও তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। একই মামলায় তৎকালীন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে রিফাত রশিদ সংগঠনের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি ও দুটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিন দফা দাবির মধ্যে-
- প্রথমটি হলো, হবিগঞ্জের নেতা মাহদী হাসানকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসিকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
- দ্বিতীয় দাবি হিসেবে তিনি বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশ নেয়া ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি দিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।
- তৃতীয় দাবিতে বলা হয়, জুলাই বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীসহ সামরিক, আধা সামরিক এবং বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবদান রাষ্ট্রীয়ভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি তাদের সম্মাননা, স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কর্মক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধে একটি স্থায়ী কমিশন গঠন করতে হবে।
এছাড়া ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে যারা ফ্যাসিবাদের রোষানলে পড়ে সশস্ত্র বাহিনীতে পদোন্নতিবঞ্চিত হয়েছেন, তাদের দ্রুত পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল পদে পদায়নের দাবিও জানানো হয়।
দুটি কর্মসূচির কথা তুলে ধরে রিফাত রশিদ বলেন, ওসি–এসপিদের তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে। তিনি বলেন, কোনও টালবাহানা নয়—এবার অ্যাকশন হবে, অ্যাকশন।
দ্বিতীয় কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনকারীদের দায়মুক্তি নিশ্চিত করতে ইমডেমনিটি অধ্যাদেশ জারির দাবিতে আইন উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে অবিলম্বে মতবিনিময় করা হবে এবং রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করতে সরকারকে চাপ দেয়া হবে। এ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার মাহদী হাসানের জামিন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে রিফাত রশিদ বলেন, মাহদী হাসান এখনও নিঃশর্ত মুক্ত নন। একটি মামলায় শুধু জামিন দেয়া হয়েছে। তাই তাদের প্রথম দাবি পুরোপুরি পূরণ হয়নি এবং আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সবার দেশ/কেএম




























