Sobar Desh | সবার দেশ ফরিদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩:৪১, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

ক্ষোভে আবেদনপত্রে যা লিখলেন

গেজেট থেকে নাম প্রত্যাহারের আবেদন জুলাই যোদ্ধা ইতুর

গেজেট থেকে নাম প্রত্যাহারের আবেদন জুলাই যোদ্ধা ইতুর
ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ফরিদপুরের আবরাব নাদিম ইতু সরকারি গেজেট থেকে নিজের নাম প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তিনি এ আবেদনপত্র জমা দেন। তার গেজেট নম্বর—২৪৮৯।

ডিসির অনুপস্থিতিতে আবেদনপত্রটি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন।

আবরাব নাদিম ইতু আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন, 

জুলাইয়ের যৌক্তিক আন্দোলনে আহত হয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনগুলো জুলাইয়ের যে চেতনা— দুর্নীতি ও লুটপাটমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়েছিলো, তা কোনোভাবেই বাস্তবায়িত করতে পারেনি। এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।

তিনি আরও লেখেন, বিশেষ করে ফরিদপুরে প্রশাসনিক ক্ষেত্রসহ বিভিন্ন সেক্টরে আগের মতোই অনিয়ম চলছে। একই সিন্ডিকেট বহাল আছে, অনিয়মও থেমে নেই। তাই আমি আমার নাম সরকারি গেজেট থেকে প্রত্যাহার করছি এবং মাসিক ভাতা (যদিও আমি গ্রহণ করিনি) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করছি।

পরবর্তীতে এক ফেসবুক পোস্টে আবরাব নাদিম ইতু লিখেছেন, 

আওয়ামী লীগ সরকার আমার বাবার দুই বছরের পেনশনের টাকা আটকে রেখেছিলো। আর এখন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও উচ্চ পর্যায়ে ঘুরেও কোনও ফল পাইনি। দেশের অবস্থা আগের মতোই— শুধু মুখ পাল্টেছে, ব্যবস্থাটা নয়।

জানা যায়, আবরাব নাদিম ইতু জুলাই আন্দোলনের শুরুর দিক থেকেই ফরিদপুরে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার নেতৃত্বে শহরে পদযাত্রা ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ১৮ জুলাই ব্রহ্মসমাজ সড়কে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচিতে হামলার সময় তিনি এবং কাজী নিশাদ নামে আরও এক শিক্ষার্থী রক্তাক্তভাবে আহত হন।

এ নিয়ে ইতু বলেন, 

আমরা যে পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করেছিলাম, তা কোথাও প্রতিফলিত হয়নি। চারদিকে এখনও আত্মস্বার্থ ও বন্দোবস্তের রাজনীতি চলছে। কোনো কাঠামোগত পরিবর্তন হয়নি।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন বলেন, আবরাব নাদিম ইতু স্বেচ্ছায় জুলাই যোদ্ধাদের সরকারি গেজেট এবং সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে নিজের নাম প্রত্যাহারের আবেদন জমা দিয়েছেন। আমরা তা গ্রহণ করেছি এবং পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সবার দেশ/কেএম