তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ নিহত: রিপোর্ট
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন—এমন দাবি করেছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম। দেশটির প্রভাবশালী টেলিভিশন চ্যানেল Channel 12-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানে লক্ষ্যভিত্তিক হামলায় তিনি তার দেহরক্ষীদেরসহ প্রাণ হারান।
তবে এ ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তেহরান থেকে কোনও নিশ্চিত বিবৃতি না আসায় ঘটনাটি ঘিরে ধোঁয়াশা ও জল্পনা বাড়ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিদের টার্গেট করে হামলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিলো। সে ধারাবাহিকতায় আহমেদিনেজাদকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। যদিও হামলার নির্দিষ্ট সময়, স্থান কিংবা ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন মাহমুদ আহমেদিনেজাদ। তার শাসনামলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদার হয় এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক তীব্রভাবে অবনতি ঘটে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তার কড়া বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে কঠোর নীতির কারণে তিনি সমর্থক ও সমালোচক—দুই পক্ষের কাছেই সমানভাবে আলোচিত ছিলেন। তার সম্ভাব্য মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এদিকে, ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটি সত্য কিনা, নাকি এটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ—সে প্রশ্নও সামনে আসছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। তেহরান আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সবার দেশ/কেএম




























