সংসদে জামায়াতকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
‘দখল করা ব্যাংক বেদখল হবে—এ যাতনা আমরা বুঝি’
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডকে ঘিরে চলমান বিতর্ক এবার জাতীয় সংসদে তীব্র রাজনৈতিক বাকযুদ্ধে রূপ নিয়েছে। বিরোধী দলের অভিযোগের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কঠোর ভাষায় বলেন, ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করে কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিষয়কে রাজনৈতিক ইস্যু বানানো ঠিক নয়।
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের তৃতীয় দিনে ৬৮ বিধিতে ইসলামী ব্যাংক সংক্রান্ত আলোচনার জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসলামী ব্যাংক কোনও ধর্ম নয়, আবার জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়। তাই সবকিছুকে ধর্মের সঙ্গে মিলিয়ে দেখানো বা ধর্মীয় আবেগকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, একবার যে ব্যাংক দখল করা হয়েছিলো, সে দখল আবার বেদখল হয়ে যাবে—এ নিয়ে যে যাতনা তৈরি হয়েছে, সেটি তারা বুঝতে পারছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পর্দার আড়াল থেকে গ্রাহকের পরিচয়ে রাজনৈতিক আন্দোলন তৈরি করা হচ্ছে।
ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ও শেয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেয়ার ক্রয়–বিক্রয়ের বিষয়টি বাজারের নিয়মেই হয়েছে এবং ব্লক মার্কেটে শেয়ার কয়েকগুণ দামে বিক্রির নজিরও রয়েছে। তার মতে, মালিকানা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বৈধ শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার অস্বীকার করা যায় না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শেয়ার কারা কীভাবে নিয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত হতে পারে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি অনুসন্ধান করতে পারে। তবে বৈধ শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫, ৪৬, ৪৭ ও ৪৯ ধারা অনুযায়ী জনস্বার্থ ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। প্রয়োজনে পর্ষদ পুনর্গঠন বা অপসারণের ক্ষমতাও রয়েছে।
বিরোধী দলের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, যদি কারও আপত্তি থাকে, তাহলে আগে আইন পরিবর্তন করতে হবে। আইন না বদলালে রেগুলেটরি অথরিটি তার ক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করবে।
ইসলামী ব্যাংকের আরডিএস প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, এ প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিতরণ হলেও তার সঠিক হিসাব ও ব্যবহার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে আরডিএস প্রকল্পে নতুন করে বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, যার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ব্যাংকের নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাজার হাজার জনবল পরিবর্তন ও নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ছিলো না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন।
তিনি আরও জানান, ইসলামী ব্যাংক থেকে কিছু ঋণ বিতরণ ও সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, যা ভবিষ্যতে তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
আলোচনার শেষ দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে যেসব বিতর্ক রয়েছে, সেগুলো আইন, তদন্ত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। রাজনৈতিক বা ধর্মীয় ব্যাখ্যায় নয়।
সবার দেশ/কেএম




























