সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান রেলওয়ের
রেলপথে নাশকতার আশঙ্কা
বাংলাদেশ রেলওয়ে দেশের বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচলে ‘নাশকতার আশঙ্কা’ প্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যাত্রী ও স্থানীয়দের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, সন্দেহজনক কিছু দেখলেই তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
একের পর এক দুর্ঘটনা ও তদন্ত কমিটি
সোমবার (৪ আগস্ট) রেল মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাথমিক সতর্কতা ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার কারণে বড় ধরনের জানমালের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
প্রতিটি ঘটনার তদন্তে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলওয়ে জানায়, তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নাটোরে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেল
গত ৩ আগস্ট দিবাগত রাতে নাটোরের মাধনগর এলাকায় একটি সুচিন্তিত নাশকতার চেষ্টা ব্যর্থ করা হয়। স্থানীয় রেলকর্মীরা ট্র্যাকে শিকল পেঁচিয়ে তালা দেয়া দেখতে পান, যা ট্রেন লাইনচ্যুত করার উদ্দেশ্যে বসানো হয়েছিলো।
লোকাল কি-ম্যানের দ্রুত পদক্ষেপে চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি থামানো হয় এবং পরে শিকল সরিয়ে নিরাপদে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। রেলওয়ে জানিয়েছে, এটি স্পষ্টতই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চেষ্টা ছিলো।
বাইরে থেকে গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা
রেলওয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে—রেলকর্মীদের বাইরে থেকে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রেলপথে নাশকতা চালানোর চেষ্টা করছে। এ কারণে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সন্দেহজনক কিছু দেখলে কী করবেন?
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যাত্রী, স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। রেললাইন বা এর আশপাশে সন্দেহজনক কিছু বা প্রতিবন্ধকতা দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে তা জানাতে হবে।
এ জন্য হটলাইন ১৩১ বা টোল-ফ্রি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করতে বলা হয়েছে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও নিশ্চিত করেছে রেলওয়ে।
রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সবার সহযোগিতা ছাড়া রেলপথে নাশকতা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তাই নিরাপদ ভ্রমণের জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
সবার দেশ/কেএম




























