চার দফা অনুরোধ
সেনা কর্মকর্তাদের বিচারে ‘ঐতিহাসিক অধ্যায়’ দেখছে অ্যামনেস্টি
মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি মামলায় অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) আওতায় এনে বিচার শুরু করার সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
বুধবার (২২ অক্টোবর) লন্ডন থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটি বাংলাদেশের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরুর নজির।
বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, এটি জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এ বিচার অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হতে হবে।
সংস্থাটি বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের প্রতি চার দফা বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে—
- পুরো বিচার প্রক্রিয়ায় যথাযথ ও ন্যায়সংগত বিচার মানদণ্ড নিশ্চিত করা,
- বেসামরিক আদালতে শুনানির সুযোগ রাখা,
- অভিযুক্তদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা,
- এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার থেকে বিরত থাকা।
অ্যামনেস্টির মতে,
এ মামলাটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, দক্ষিণ এশিয়ার বিচারব্যবস্থার জন্যও এক ‘ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত’। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার ঘটনা দেশে বিরল।
চলতি মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অভিযোগপত্র গ্রহণের পরই ১৫ কর্মকর্তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তারা ঢাকার সেনানিবাসের একটি সাবজেলে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আটক রয়েছেন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে,
এ মামলার ফলাফল বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সামরিক বাহিনীর জবাবদিহির ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণ করবে।
সবার দেশ/কেএম




























