খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দিতে ঢাকামুখী জনতার স্রোত
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকার দিকে ছুটছেন বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক ও সর্বস্তরের সাধারণ জনগন। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরের পর থেকেই রাজধানীমুখী এই যাত্রা শুরু হয়, যা সন্ধ্যা ও রাতভর আরও জোরালো আকার ধারণ করে।
শেষবারের মতো প্রিয় নেত্রীকে এক নজর দেখার আশায় নেতাকর্মীরা বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও ব্যক্তিগত যানবাহনে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। জেলা পর্যায়ের বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পরপরই নেতাকর্মীদের মধ্যে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে সে সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকে।
ভোলা, বরিশাল ও চাঁদপুরসহ উপকূলীয় ও নদীবেষ্টিত জেলা থেকে অনেক নেতাকর্মী নদীপথে লঞ্চে করে ঢাকায় আসছেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকামুখী ট্রেনগুলোতেও বিএনপির নেতাকর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই রাতের বাসে রাজধানীর পথে রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা ও আশপাশের অঞ্চল থেকে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর ও সকালে নেতাকর্মীরা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিকে যাত্রা শুরু করবেন বলে জানা গেছে। জানাজায় বিপুল মানুষের উপস্থিতি হবে—এমন প্রস্তুতিই নিচ্ছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
সরজমিনে দেখা গেছে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নেতাকর্মীদের মুখে গভীর শোক ও বিষণ্নতার ছাপ। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির দলীয় কার্যালয়গুলোতে শোকের আবহ বিরাজ করছে। কার্যালয়গুলোতে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে এবং অনেক জায়গায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের মাঠ ও সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার নামাজে ইমামতি করবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব। জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে।
প্রসঙ্গত, বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮০ বছর। এ সময় হাসপাতালে তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের ঘনিষ্ঠ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
সবার দেশ/কেএম




























