মাঠ প্রশাসনকে কঠোর বার্তা ইসির
মনোনয়ন যাচাই শেষ হচ্ছে রোববার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই কার্যক্রম শেষ হচ্ছে আগামীকাল রোববার (৪ জানুয়ারী)। যাচাই শেষে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ৩০ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এ যাচাইবাছাই চলবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।
ইসি সূত্র জানায়, যাচাইবাছাইয়ে কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হলে তিনি রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। এরপর ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। নির্বাচনি প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ভোটের আগের দিন ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।
এদিকে তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনের প্রতিটি ধাপ আইন ও আচরণবিধি মেনে সম্পন্ন করার বিষয়ে মাঠ প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কোনওভাবেই আচরণবিধিতে শিথিলতা দেখানো যাবে না—এমন নির্দেশ দিয়ে মাঠ প্রশাসন, নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার সাংবাদিকদের বলেন, মনোনয়নপত্র দাখিল ও যাচাইবাছাই শেষে আইন অনুযায়ী ধাপে ধাপে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হবে। আচরণবিধি প্রতিপালনে কোনও ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। তিনি জানান, মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি চলছে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তফসিল ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত বড় আকারের পোস্টার, ব্যানার বা বিলবোর্ড তেমন চোখে পড়ছে না, যা ইতিবাচক দিক। রাজনৈতিক দলগুলোও নির্বাচন কমিশনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ২ হাজার ৯০টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ৪৭৮ জন। সব মিলিয়ে ৩০০ আসনে আড়াই হাজারের বেশি মনোনয়নপত্র জমা হয়েছে। বর্তমানে ইসির নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫৯। আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।
ঢাকার ২০ আসনে মনোনয়ন বাছাই আজ: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা জেলার ২০টি আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই করে বৈধ বা বাতিলের বিষয়ে আজ সিদ্ধান্ত দেবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা। এসব আসনে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ২৩৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ছিলো ২৯ ডিসেম্বর। এরপর ৩০ ডিসেম্বর থেকে যাচাইবাছাই শুরু হয়। রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা ইতোমধ্যে প্রার্থীদের হলফনামা ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করছেন। প্রার্থীর যোগ্যতা ও আইনগত শর্ত পূরণ হয়েছে কি না—তা যাচাই করেই মনোনয়নপত্র বৈধ বা বাতিলের সিদ্ধান্ত দেয়া হবে।
ঢাকা জেলার ২০টি আসনের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর ১৩টি আসনে বিভাগীয় কমিশনার রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন। পাঁচটি আসনে জেলা প্রশাসক এবং দুটি আসনে ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে রয়েছেন।
ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী জানান, সেগুনবাগিচায় রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে আজ মনোনয়নপত্র বাছাইসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দেয়া হবে। অপরদিকে ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৫ আসনের রিটার্নিং অফিসার, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী জানান, এ দুই আসনে মোট ২০টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-১৩ আসনে ১১টি এবং ঢাকা-১৫ আসনে ৯টি।
তিনি বলেন, আজ সকাল সাড়ে ১০টায় আগারগাঁওয়ের নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সম্মেলনকক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই করা হবে। যাচাইয়ের সময় প্রার্থী নিজে, তার প্রস্তাবক ও সমর্থক এবং প্রার্থী চাইলে নিযুক্ত আইনজীবীসহ সর্বোচ্চ পাঁচজন উপস্থিত থাকতে পারবেন। যাচাই শেষে প্রকাশ্যে জানানো হবে কোন মনোনয়নপত্র বৈধ এবং কোনটি বাতিল।
মনোনয়ন বাতিল হলে আপিলের সুযোগ: রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুচ আলী জানান, যাচাইবাছাইয়ে যেসব মনোনয়নপত্র বাতিল হবে, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তির পর কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।
তিনি জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী ঋণখেলাপি হওয়া, আয়কর সংক্রান্ত জটিলতা, মনোনয়নপত্র যথাযথভাবে পূরণ না করা বা আইনগত যোগ্যতার ঘাটতির কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল হতে পারে। দলীয় প্রার্থী হতে দলীয় প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে নির্বাচনি এলাকার অন্তত ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন থাকতে হবে। সমর্থন তালিকা দৈবচয়নের মাধ্যমে যাচাই করে রিটার্নিং অফিসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন।
সবার দেশ/কেএম




























