ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি বসাতে প্রায় ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারা দেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এ অর্থ দিয়ে ২১ হাজার ৯৪৬টি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদারে ক্যামেরা বসানো হবে।
মঙ্গলবার প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভা শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
উপ-প্রেস সচিব জানান, সারা দেশে প্রায় ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ৫৫২টি কেন্দ্রে আগে থেকেই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা আছে। বাকি কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ২১ হাজার ৯৪৬টিকে অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে নতুন করে সিসিটিভি বসানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বরাদ্দ অনুযায়ী প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ন্যূনতম ছয়টি করে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ তালিকার বাইরে থাকা কেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন এবং জেলা প্রশাসনের নিজস্ব অর্থায়নে ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে দেশের সব জেলায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং অনেক এলাকায় দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।
আবুল কালাম আজাদ মজুমদার আরও জানান, কয়েকটি জেলায় প্রায় শতভাগ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুর জেলা উল্লেখযোগ্য। গাজীপুরে মোট ৯৩৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৪৭টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের অধিকাংশে ইতোমধ্যে বিশেষ বরাদ্দের আওতায় সিসিটিভি স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোতেও আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ক্যামেরা বসানোর কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সারা দেশে ২৯৯টি ভোটকেন্দ্র শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। এসব কেন্দ্রে সৌর বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, প্রয়োজনে জেনারেটরের মাধ্যমে হলেও ভোটের দিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনার বিষয়েও নিকার সভায় আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকার আয়তন ও জনসংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঢাকা মহানগর পুলিশকে উত্তর ও দক্ষিণে ভাগ করা হবে নাকি আরও কয়েকটি অংশে পুনর্গঠন করা হবে—এ বিষয়ে আলোচনা হলেও এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ ছাড়া চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। সেখানে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে আরও জোরদার অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং আশপাশের এলাকায় লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে কম্বিং অপারেশন চালানো হবে।
সবার দেশ/কেএম




























