যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করলেন প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে শান্তি বিনষ্টের যেকোনও অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। এ সময় তারা আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ছাড়াও বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান চলাচল, শ্রম সংস্কার এবং বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন।
সাক্ষাতে অধ্যাপক ইউনূস জানান, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার সব ধরনের প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
‘আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত,’ বলেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে কোনও ধরনের সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
এক বছর ধরে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করা মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন গত ১৭ মাসে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত বিভিন্ন সংস্কারের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে শ্রম আইন সংস্কারকে তিনি ‘অত্যন্ত ব্যতিক্রমী ও অসাধারণ’ বলে অভিহিত করেন। তার মতে, এসব সংস্কার বাংলাদেশে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ সময় তিনি পূর্ববর্তী সরকারগুলোর আমলে শ্রম নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৪৬টি মামলার মধ্যে ৪৫টি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্তেরও প্রশংসা করেন।
জবাবে অধ্যাপক ইউনূস নতুন শ্রম অধ্যাদেশকে একটি আদর্শ আইন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় শ্রম আন্দোলনকর্মীরা এসব সংস্কার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) কনভেনশন অনুমোদনের সিদ্ধান্তকে প্রকাশ্যে স্বাগত জানিয়েছেন।
সাক্ষাতে রোহিঙ্গা সংকট ও মানবিক সহায়তার অর্থায়ন নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গাদের জন্য অব্যাহত সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের শিবিরগুলোতে বসবাসরত এক মিলিয়নেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার জন্য জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে সবচেয়ে বড় দাতা।
অধ্যাপক ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্রের এ মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
বিদায়ী সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টা তার এক বছর মেয়াদি দায়িত্বকালে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সফরের জন্য ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনকে আমন্ত্রণ জানান।
সবার দেশ/কেএম




























