‘আদালত অবমাননার শঙ্কা’ তুলে প্রশ্ন
তদন্তে না যাওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ মাহমুদ
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচনে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ঘিরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) গঠিত তদন্ত কমিটির ডাকে সাড়া না দেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
রোববার (৫ এপ্রিল) তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর নিজের অবস্থান তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়া একটি পোস্ট দেন তিনি। সেখানে তিনি স্পষ্ট করে জানান, তদন্ত প্রক্রিয়ার বৈধতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন থাকায় তিনি সাক্ষাৎকারে অংশ নেননি।
আসিফ মাহমুদ তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। ফলে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের ওপর মন্ত্রণালয় বা এনএসসির তদন্ত চালানো এখতিয়ার বহির্ভূত। তার অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপনেই যেনো আগাম সিদ্ধান্ত নির্ধারিত ছিলো, যা নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তোলে।
তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। এমন অবস্থায় তদন্ত চালানো হলে তা আদালত অবমাননার শামিল হতে পারে। এ কারণেই তিনি নিজেকে ওই প্রক্রিয়া থেকে দূরে রেখেছেন।
তার বক্তব্যে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে। তিনি বলেন, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বোর্ডের পরিচালকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে—কাউকে ভবিষ্যৎ বোর্ডে পদ দেয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছে, আবার কেউ রাজি না হলে ভয়ভীতি দেখিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়েছে।
আসিফ মাহমুদ জানান, তদন্ত কমিটি থেকে তাকে সাক্ষাৎকারের জন্য জানানো হলে তিনি তাদের কাছে জানতে চান—বিচারাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত একটি বিষয়ে তদন্ত করার আইনগত ভিত্তি কী। তবে তিনি দাবি করেন, এ প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক উত্তর পাননি।
এদিকে তদন্ত কমিটির প্রধান এ কে এম আসাদুজ্জামান বলেছেন, তারা কাউকে অভিযুক্ত করার জন্য নয়, বরং নিরপেক্ষভাবে তথ্য সংগ্রহের জন্যই কাজ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে সাক্ষাৎকারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেয়া হয়েছিলো এবং তার বক্তব্য শোনার জন্য পর্যাপ্ত সময়ও রাখা হয়েছিলো। তবে তিনি সাক্ষাৎ দিতে আসেননি।
উল্লেখ্য, বিসিবি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এ তদন্ত কমিটি গঠন করে। ইতোমধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা পড়েছে, যা নিয়ে এখন ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























