ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রতারণা করেছে: মির্জা ফখরুল
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ‘প্রতারণা’ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি বই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন তাদের সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা এ কমিশনের চেয়ারম্যান। আমরা অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করেছি, আমরা যে বিষয়গুলোর সঙ্গে একমত ছিলাম না, সেখানে পরিষ্কারভাবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছিলাম। সেগুলো লিপিবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতিও ছিলো। কিন্তু যখন তারা প্রকাশ করলেন, সে বিষয়গুলো নেই—নোট অব ডিসেন্টগুলো পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঐকমত্য কমিশন সুপারিশমালায় রাজনৈতিক দলগুলোর দেয়া ভিন্নমত বা নোট অব ডিসেন্ট উপেক্ষা করেছে, যা কোনোভাবেই ঐকমত্য হতে পারে না। তাহলে ঐকমত্য কমিশনটা করা হয়েছিলো কেনো? এ ঐকমত্য কমিশন জনগণের সঙ্গে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একটা প্রতারণা।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই—আপনি জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আপনি এখানে সত্যিকার অর্থেই যেটুকু সংস্কার দরকার, সে সংস্কারগুলো করে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন দেবেন। সে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে পার্লামেন্ট আসবে, সে পার্লামেন্টই দেশের সংকটগুলো সমাধান করবে। যদি এর থেকে কোনও ব্যত্যয় ঘটে, তার দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণ আপনাকেই বহন করতে হবে।
তিনি দাবি করেন, সরকার সময়ক্ষেপণ করছে এবং এতে করে ‘ফ্যাসিবাদের পক্ষের শক্তি’ আরও শক্তিশালী হচ্ছে। আমরা ৫ আগস্ট বিপ্লবের পরপরই নির্বাচনের কথা বলেছিলাম। তখন অনেকে বলেছিলেন, আমরা ক্ষমতা চাই, তাই অতিদ্রুত নির্বাচন চাচ্ছি। কিন্তু আজ প্রমাণিত—যত দেরি হচ্ছে, তত ফ্যাসিবাদের শক্তিগুলোই শক্তিশালী হচ্ছে, বলেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিব অবিলম্বে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বলেন, সংস্কার কমিশনে যেগুলোতে আমরা একমত হয়েছি এবং যেগুলোতে দ্বিমত পোষণ করেছি, সবকিছুকে সামনে রেখে অবিলম্বে নির্বাচন দিতে হবে।
তিনি বলেন, সব সংকটের মূলে আছে একটি বিষয়—গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের যে পার্লামেন্ট তৈরি হবে, সে পার্লামেন্টই সংবিধানের মধ্যে থেকে সব সমস্যার সমাধান করবে।
‘এতো ত্যাগের পরেও বিভক্তি বাড়ছে,’ উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, এতো বড় একটা অভ্যুত্থান, এত প্রাণের বিনিময়ে যে পরিবর্তন এসেছে, সেটাকে এখন জাতির কল্যাণে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। যত সময় যাচ্ছে, তত বিভাজন বাড়ছে—এটা কারা করছেন, কেন করছেন, তা বোঝা দরকার। সোশ্যাল মিডিয়ায় পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে ঘৃণার রাজনীতি চলছে।
এ সময় গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ঐকমত্য কমিশন যে সুপারিশ করেছে, সেখানে হঠাৎ দেখলাম নোট অব ডিসেন্টের উল্লেখ নেই। এটা তো কোনও ঐকমত্য নয়। কমিশনকে এর ব্যাখ্যা দিতে হবে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদে স্পষ্টভাবে বলা আছে—দলগুলো নিজ নিজ ইশতেহারে আপত্তির অংশগুলো প্রকাশ করবে। যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, সে দলই জনগণের ম্যান্ডেট অনুযায়ী আপত্তির অংশগুলোর মীমাংসা করবে।
প্রধান উপদেষ্টার ক্ষমতা প্রসঙ্গে জোনায়েদ সাকি প্রশ্ন তোলেন, অনেকে দাবি তুলছেন প্রধান উপদেষ্টা আদেশ দেবেন। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা আদেশ দেবেন কোন ক্ষমতাবলে? রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনও আদেশ প্রেসিডেন্টের নামে জারি হয়। যদি প্রধান উপদেষ্টা নিজে আদেশ দেন, তাহলে তিনি নিজেকে রাষ্ট্রের প্রধান ঘোষণা করছেন—এতে কার্যত সংবিধান স্থগিত হয়ে যায়।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ঐকমত্য ছাড়া কেউ কারও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে তা কার্যকর হবে না। এটা সবাইকে উপলব্ধি করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—চর্চা ডটকমের সম্পাদক সোহরাব হাসান, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ বিভিন্ন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি।
সবার দেশ/কেএম




























