Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:৪৫, ১ নভেম্বর ২০২৫

আপডেট: ১৩:৪৬, ১ নভেম্বর ২০২৫

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিবিরের ভূমিধস জয় ‘রহস্যজনক’: নুর

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিবিরের ভূমিধস জয় ‘রহস্যজনক’: নুর
ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনুষ্ঠিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির ও তাদের ঘনিষ্ঠ প্রার্থীদের জয় নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, ছাত্রদল ও শিবির এতদিন ক্যাম্পাসে প্রবেশই করতে পারতো না, প্রকাশ্যে পরিচয়ও দিতো না। শিবির তো একেবারেই নিষিদ্ধ সংগঠন। তবু চার বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের এমন ভূমিধস জয়—এটা আমার কাছে সম্পূর্ণ রহস্যজনক।

শনিবার (১ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) ও জার্মান রাজনৈতিক ফাউন্ডেশন ফ্রেডরিখ এবার্ট স্টিফটুং (এফইএস)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত ‘পলিটিক্স ল্যাব: পাবলিক ডায়ালগ’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমান।

নুর বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর—এ চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের একেবারে ভূমিধস বিজয় হয়েছে। সবাই জানে, যারা স্বতন্ত্র হিসেবে জিতেছে তারাও শিবিরের নেটওয়ার্কের অংশ। প্রশ্ন হচ্ছে, উচ্চশিক্ষিত তরুণরা কেন তাদের ভোট দিলো?

তার বিশ্লেষণে, শিবিরের এ সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাদের ‘ওয়েলফেয়ার বেইজড পলিটিক্স’ বা কল্যাণভিত্তিক রাজনীতি। নুর বলেন, 

তারা ছাত্রদের নানা সুবিধা দেয়—বৃত্তি, চিকিৎসা ছাড়সহ নানা প্রণোদনা। এমনকি কিছু হাসপাতালে নাকি তাদের সঙ্গে এমন চুক্তি রয়েছে যেখানে সদস্যদের পরিবার স্বল্প খরচে চিকিৎসা নিতে পারে।

তরুণ ভোটারদের আচরণ প্রসঙ্গে নুর বলেন, 

আমরা তরুণদের নিয়ে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখি, কিন্তু যদি তারাও সুবিধার বিনিময়ে ভোট দেয়, তাহলে এটি চিন্তার বিষয়। গ্রামে মানুষ ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকায় ভোট দেয়—সেটা জনসচেতনতার অভাব। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিত তরুণরা যদি একই আচরণ করে, তাহলে নেতৃত্বে আবারও অযোগ্যরা উঠে আসবে।

সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা এবং সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী।

তাসনিম জারা বলেন,

প্রতিবাদ করা ছাড়া দেশে কোনও দাবি আদায় হয় না। যেকোনও ন্যায্য দাবির জন্য আমাদের রাস্তায় নামতে হয়—এ সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, আমরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করিনি কারণ সেখানে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস স্থান পায়নি। বিদ্যমান সংবিধানে গণভোটের কোনও ধারা নেই, তাই গণভোটের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন আছে।

অন্যদিকে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, 

আলোচনার টেবিলে সবাই আন্তরিক থাকলেও টেলিভিশনের সামনে গিয়ে তারা আবার দলের হয়ে যায়। বাংলাদেশে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো না থাকলে রাজনীতি অনেক সহজ হয়ে যেতো।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন,

ঐকমত্য কমিশন জাতির সামনে অনৈক্যের দলিল হাজির করেছে। জাতীয় নির্বাচনের স্থায়ী সমাধান না আসা পর্যন্ত রাজনৈতিক সংকটেরও কোনও সমাধান হবে না।

সংলাপজুড়ে অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে, তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক চেতনা, স্বচ্ছ নির্বাচনী সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধভিত্তিক নেতৃত্ব গড়ে তোলাই এখন বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন