নুরের অভিযোগে উত্তপ্ত গোলটেবিল, চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন হাসনাত
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নির্বাচনী প্রেক্ষাপট নিয়ে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তীব্র বাকযুদ্ধে জড়ালেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ। নুরের অভিযোগ— ডিসি ও এসপি পদে এনসিপির ‘সুপারিশ বাণিজ্য’— উত্তপ্ত করে তোলে সভার পরিবেশ।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) একটি জাতীয় দৈনিক আয়োজিত ‘রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা: নির্বাচন ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে নুরুল হক নুর বলেন,
ভিপি নুরের সুপারিশে কেউ ডিসি–এসপি–ইউএনও হয়নি, কিন্তু হাসনাতদের সুপারিশে ডিসি হয়েছে, ইউএনও হয়েছে।
নুরের এমন বক্তব্যের পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন,
যদি কেউ প্রমাণ করতে পারেন যে আমি ডিসি–এসপি পদায়নে সুপারিশ করেছি, আমি রাজনীতি থেকে ইস্তফা দেব। নুর ভাই, আপনি প্রমাণ দিন, না হলে আপনার এ অভিযোগ রাজনৈতিক বিভাজন তৈরির প্রচেষ্টা ছাড়া কিছু নয়।
বৈঠকের শুরু থেকেই বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিকে একযোগে সমালোচনায় রাখেন নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, সচিবালয় বা আমলাতন্ত্রের ভাগবাটোয়ারা বিএনপি–জামায়াত মিলে করেছে। কিন্তু আমরা দেখেছি, নতুন দল এনসিপিও জাজ নিয়োগ দিয়েছে। তিন দলই প্রধান উপদেষ্টার কাছে তালিকা ধরিয়ে দিয়েছে।
এ বক্তব্যের পর হাসনাত পাল্টা মন্তব্য করে বলেন,
আপনারাও লিস্ট পাঠিয়েছেন, ভাগ না মেলায় এখন এনসিপির সমালোচনা করছেন। রাজনীতিতে শিষ্টাচার থাকা দরকার, অভিযোগ নয়।
তবে হাসনাতের মন্তব্যে নুরও ছাড় দেননি। পাল্টা জবাবে তিনি বলেন, এরা একটু নতুন রাজনীতি করছে, তাই শিষ্টাচারে একটু ঘাটতি দেখা যায়।
এনসিপির ‘শাপলা’ প্রতীক দাবিকেও অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন সাবেক ডাকসু ভিপি নুর। তিনি বলেন, যেহেতু গেজেটেই শাপলা প্রতীক নেই, তাই শিক্ষিত মানুষ হয়ে এ নিয়ে ঠেলাঠেলি করা অর্থহীন।
বৈঠকে দুই তরুণ রাজনীতিকের এ মুখোমুখি বাকযুদ্ধ উপস্থিত রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তাৎক্ষণিক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই মনে করছেন, এ বিতর্ক শুধু নির্বাচনী ইস্যু নয়— নতুন প্রজন্মের রাজনীতির ভেতরকার ক্ষমতার টানাপোড়েনও তুলে ধরেছে।
সবার দেশ/কেএম




























