Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:৪০, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

ফেসবুক পোস্টে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

‘দাদুর পাশে থাকতে চাই, আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই’

‘দাদুর পাশে থাকতে চাই, আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই’
ছবি: সংগৃহীত

১৮ বছরের দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ২৫ ডিসেম্বর বাবার সঙ্গে দেশে ফিরছেন জাইমা রহমান। দেশে ফেরার প্রাক্কালে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) নিজের ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে দাদি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাটানো শৈশবের স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি। নিজেকে ‘দাদুর নাতনি’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, দেশে ফিরে তিনি দাদির পাশে থাকতে চান এবং রাজনৈতিক এ সন্ধিক্ষণে বাবাকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চান।

দাদুকে নিয়ে শৈশবের অমলিন স্মৃতি

জাইমা তার পোস্টে ১১ বছর বয়সের একটি স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি লিখেন, স্কুলের ফুটবল টুর্নামেন্টে মেডেল জেতার পর তার মা সরাসরি তাকে খালেদা জিয়ার অফিসে নিয়ে গিয়েছিলেন। দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের শত ব্যস্ততার মাঝেও তার দাদি যেভাবে পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে নাতনির বিজয়ের গল্প শুনেছিলেন এবং গর্ববোধ করেছিলেন, সেটিই জাইমার কাছে নেতৃত্বের প্রথম শিক্ষা—যা হলো নম্রতা ও মন দিয়ে শোনার মানসিকতা। জাইমার ভাষায়, লাখো মানুষের কাছে তিনি প্রধানমন্ত্রী হলেও, আমার কাছে তিনি ছিলেন শুধুই দাদু।

প্রবাস জীবন ও আইনি পেশার শিক্ষা

লন্ডনের ১৭ বছরের জীবন জাইমাকে বাস্তববাদী হতে শিখিয়েছে। একজন ব্যারিস্টার হিসেবে কাজ করতে গিয়ে তিনি মানুষের দুঃখ-দুর্দশাকে আইনগতভাবে সমাধানের যে শিক্ষা পেয়েছেন, তা তাকে আরও দায়িত্বশীল করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ক্লাসরুমের চেয়ে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা তাকে বেশি ঋদ্ধ করেছে। লন্ডনের বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি পেলেও তার হৃদয় সব সময় বাংলাদেশে পড়ে ছিলো বলে তিনি জানান।

পারিবারিক আদর্শ ও আগামীর অঙ্গীকার

জাইমা তার দাদা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সততা ও দেশপ্রেমের গল্প শুনে বড় হয়েছেন। তিনি বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান এবং ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের সময় নেপথ্যে থেকে যতটুকু সম্ভব ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছেন। এখন দেশে ফিরে সরাসরি মানুষের সঙ্গে কথা বলতে চান এবং একটি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নতুন বাংলাদেশ গড়তে সক্রিয় হতে চান।

জনগণের প্রত্যাশা ও ফিরে আসা

জনসাধারণের কৌতূহল ও প্রত্যাশাকে সম্মান জানিয়ে জাইমা লিখেন, আমি জানি আমার পরিবারকে ঘিরে অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। সে প্রত্যাশা পূরণের চাপ আমরা সবাই অনুভব করি। আমরা সবাই হয়তো বাকি পথটা একসঙ্গে হাঁটতে পারি।

উল্লেখ্য, আগামী ২৫ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে তারেক রহমান ও জাইমা রহমানকে বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। তাদের বরণ করে নিতে ইতোমধ্যে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বিএনপি।

সবার দেশ/কেএম

সর্বশেষ