বিএনপি নেতাদের হত্যায় সরকারের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: মির্জা ফখরুল
দেশে বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটেও সন্তোষজনক নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজনৈতিক নেতাদের ওপর ধারাবাহিক হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরকার কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের কালিবাড়িস্থ নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, দেশের মানুষ একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সে পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে। যে হারে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিএনপির অনেক নেতাও ইতোমধ্যে এ সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, এসব ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সরকার এখনও পর্যন্ত কার্যকর ও দৃশ্যমান কোনও উদ্যোগ নেয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকার দায়িত্বশীল ভূমিকা গ্রহণ করবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্রসংসদ নির্বাচন জাতীয় রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি বিগত ১৭ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্বাভাবিক সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে পারেনি। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনও প্রভাব ফেলবে না।
তিনি আরও জানান, বিএনপি এর আগেই একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছিলো এবং সেটি সেভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কার প্রশ্নে দলটির অবস্থানও নতুন নয়। বিএনপি আগেই ৩১ দফার মধ্যে নিজেদের স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরছেন না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনায় অনেকেই নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ব্যবহার করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আসন্ন উত্তরবঙ্গ সফর নিয়েও কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, এ সফর রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সফরের মাধ্যমে স্থানীয় নেতাকর্মীরা আরও উজ্জীবিত হবেন। তবে সফরটি মূলত ব্যক্তিগত প্রকৃতির। এ সময় তারেক রহমান জুলাইযোদ্ধা শহীদ আবু সাঈদসহ অন্যান্য শহীদের কবর জিয়ারত করবেন এবং প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গণদোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন।
এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবর রহমান তুহিনসহ বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী এবং আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত ছিলেন।
সবার দেশ/কেএম




























