মাস্কের সংকটকাল আরও ঘনীভূত
এক্স-এর সিইও লিন্ডা ইয়াকারিনোর পদত্যাগ
ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এর (সাবেক টুইটার) প্রধান নির্বাহী লিন্ডা ইয়াকারিনো পদত্যাগ করেছেন। দায়িত্ব নেয়ার মাত্র দুই বছরের মাথায় দেয়া এ ঘোষণায় আরও একবার আলোচনায় এল মাস্কের বহুল সমালোচিত নেতৃত্ব ও এক্স-এর ভবিষ্যৎ।
২০২৩ সালের জুনে এনবিসি ইউনিভার্সাল থেকে এক্স-এ যোগ দিয়েছিলেন বিজ্ঞাপন জগতের অভিজ্ঞ মুখ লিন্ডা ইয়াকারিনো। মূলত মাস্কের বিতর্কিত পদক্ষেপের পর বিপর্যস্ত হয়ে পড়া এক্স-এর বিজ্ঞাপন বাজারে স্থিতি ফেরানো এবং প্ল্যাটফর্মটিকে ‘সবকিছুর অ্যাপ’ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি।
এক্স-এ নিজের বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে লিন্ডা লিখেছেন, এ অসাধারণ প্রতিষ্ঠানে দুই বছরের অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতার পর আমি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইলন মাস্কের প্রতি কৃতজ্ঞ—তিনি মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় আমাকে ভরসা দিয়েছেন এবং প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠনের সুযোগ দিয়েছেন।
জবাবে ইলন মাস্ক এক কথার পোস্টে লেখেন: আপনার অবদানের জন্য ধন্যবাদ।
সংকটে মাস্ক, প্রশ্নের মুখে এক্স
লিন্ডার পদত্যাগ এমন এক সময়ে এল, যখন মাস্ক নিজেও নানা বিতর্ক ও ব্যবসায়িক ধাক্কায় নাকাল।
- টেসলা গাড়ির বিক্রি কমেছে
- যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে খোলামেলা বিরোধে জড়িয়েছেন
- এমনকি নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের কথাও ভাবছেন মাস্ক
অন্যদিকে এক্স-এর দিকেও সমালোচনার খড়গ ঝুলছে। মাস্কের চালু করা এআই চ্যাটবট ‘গর্ক’ সম্প্রতি হিটলার সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করে তীব্র বিতর্কে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে মাস্কের এআই প্রতিষ্ঠান xAI জানিয়েছে, তারা ওই অনুপযুক্ত কনটেন্ট সরানোর প্রক্রিয়ায় আছে।
অস্থির ভবিষ্যৎ
লিন্ডা ছিলেন মাস্কের এক্সপেরিমেন্টাল নেতৃত্বের ভেতর একমাত্র করপোরেট ভারসাম্য আনার মুখ। তার বিদায়ে এক্স-এর আস্থা ও বিজ্ঞাপন পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টা আরও অনিশ্চয়তায় পড়বে বলেই মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
কে হবেন এক্স-এর পরবর্তী সিইও, তা এখনও জানা যায়নি। তবে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা, প্রযুক্তিগত বিতর্ক এবং ব্যবসায়িক চাপের ত্রিমুখী ঘূর্ণিতে ইলন মাস্ক ও তার প্রতিষ্ঠান ‘এক্স’ এখন এক কঠিন মোড়ের মুখে দাঁড়িয়ে।
সবার দেশ/কেএম




























