অভিযোগ পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে
সহকর্মীর স্ত্রীকে বিয়ে, তালাকের পর পুনরায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ
সহকর্মী এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে ফুসলিয়ে বিয়ে, পরে তালাক এবং পুনরায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মিজানুর রহমান নামের এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শেরপুরের নালিতাবাড়ী থানায় নতুন করে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী এক তরুণী।
সোমবার (২৫ মে) ২৩ বছর বয়সী ওই তরুণী নিজেই বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, তরুণীর বাড়ি ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ এলাকার মুক্তিযোদ্ধা বাজারে। অপরদিকে অভিযুক্ত কনস্টেবল মিজানুর রহমান-এর বাড়ি হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার তাম্বুলিটোলা গ্রামে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার থানায় কর্মরত থাকার সময় সহকর্মী এক কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় হয় মিজানুরের। একপর্যায়ে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে ওই তরুণীকে তার চার বছর বয়সী কন্যাসন্তানসহ ২০২৩ সালের ৭ জুলাই বিয়ে করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিয়ের পর প্রায় দেড় বছর সংসার করার পর ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি হঠাৎ করেই তাকে তালাক দেন মিজানুর। এরপর তিনি আদালতে মামলা দায়ের করলে অভিযুক্ত কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এরপর মামলা প্রত্যাহারের জন্য পুনরায় যোগাযোগ শুরু করেন বরখাস্ত হওয়া এ পুলিশ সদস্য। মোবাইল ফোনে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে আবার বিয়ে করার আশ্বাস দেন তিনি। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ মে তরুণীকে নিয়ে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পানিহাতা গ্রামে তার নানাবাড়িতে যান মিজানুর।
সেখানে রাতে পুনরায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আদালতে চলমান মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। একই সঙ্গে তরুণীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরদিন সকালেই কোনও সিদ্ধান্ত না জানিয়ে কৌশলে সেখান থেকে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যান অভিযুক্ত।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী তরুণী নালিতাবাড়ী থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শেষে সেটিকে নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করে।
আশরাফুজ্জামান, নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), গণমাধ্যমকে জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্ত কনস্টেবল বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























