মস্কোর দাবি—ভূপাতিত ২৮৩
রাশিয়াজুড়ে ইউক্রেনের নজিরবিহীন ড্রোন হামলা
রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে একযোগে ২৮০টির বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। যুদ্ধ শুরুর পর এটিকে কিয়েভের অন্যতম বৃহৎ ড্রোন আক্রমণ হিসেবে দাবি করেছে মস্কো। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।
রুশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতভর চলা এ হামলায় মোট ২৮৩টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রেখে এসব ড্রোন প্রতিহত করা হয়।
দক্ষিণাঞ্চলের রোস্তভ অঞ্চলের গভর্নর ইউরি স্লিউসার জানিয়েছেন, শুধু এ অঞ্চলেই প্রায় ৯০টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
এদিকে রাজধানী মস্কোর দিকেও ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হয়। শহরের মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, রাজধানীমুখী অন্তত ২৭টি ড্রোন প্রতিহত করেছে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এতে শহরে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি বলে জানান তিনি।
তবে সব এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়নি। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সারাতভ অঞ্চলে ড্রোন আঘাতে কয়েকটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন অঞ্চলটির গভর্নর রোমান বুসারগিন।
২০২২ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে এ ধরনের হামলা বাড়িয়েছে ইউক্রেন। কিয়েভের দাবি, তাদের হামলার মূল লক্ষ্য রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি ও জ্বালানি অবকাঠামো, যাতে যুদ্ধ পরিচালনায় মস্কোর সক্ষমতা দুর্বল করা যায়।
এদিকে চলমান সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার করার ইঙ্গিত মিলেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, স্থবির হয়ে পড়া শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে স্থগিত হয়ে থাকা রাশিয়াকে ঘিরে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে স্পষ্ট বার্তা জানতে চায় কিয়েভ। এতে করে যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের পথ কতটা এগোতে পারে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























