বংশসূত্রে মিলছে বড় সুযোগ
কানাডা সহজ করলো নাগরিকত্ব আইন
কানাডার নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। নতুন আইনের ফলে এখন আগের তুলনায় আরও সহজ হয়েছে নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ, বিশেষ করে কানাডীয় বংশোদ্ভূত বিদেশে জন্ম নেয়া ব্যক্তিদের জন্য খুলে গেছে নতুন সুযোগ।
নতুন বিধান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বরের আগে কানাডার বাইরে জন্ম নেয়া কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি কানাডীয় বংশোদ্ভূত, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আগে এ সুযোগ কেবল প্রথম প্রজন্মের সন্তানদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিলো—অর্থাৎ যাদের বাবা বা মা সরাসরি কানাডার নাগরিক।
এ আইন পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কানাডীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে নাগরিকত্বের আবেদন বেড়ে গেছে। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় জন্মসনদ, পারিবারিক রেকর্ড ও পুরোনো নথিপত্র খুঁজে বের করার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কুইবেকের জাতীয় গ্রন্থাগার ও আর্কাইভস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে এ ধরনের নথি অনুসন্ধানের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে।
কানাডা সরকারের অভিবাসন ও নাগরিকত্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্ব সনদ পেতে বর্তমানে প্রায় ১০ মাস সময় লাগছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অনেকে নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে পুনঃসংযোগ স্থাপনের আগ্রহ থেকে আবেদন করছেন। আবার যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণেও অনেক নাগরিক বিকল্প আবাসস্থল হিসেবে কানাডাকে বিবেচনা করছেন।
অটোয়াভিত্তিক অভিবাসন পরামর্শক ক্যাসান্ড্রা ফুল্টজ জানান, ২০২৪ সালের নভেম্বরের পর থেকে কানাডায় যাওয়ার আগ্রহ নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি নির্বাচনের পর এমন প্রবণতা দেখা গেলেও এবার তা অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী।
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে প্রায় ৩৪ হাজার ৭০০ মার্কিন নাগরিক কানাডায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ৩০০ জনে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার মার্কিন নাগরিক স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন।
নতুন আইনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বরের পর জন্ম নেয়া কানাডীয় বংশোদ্ভূতরাও নাগরিকত্ব পেতে পারবেন, যদি তাদের জন্মের আগে বাবা বা মা কানাডার নাগরিক হন অথবা অন্তত ১,০৯৫ দিন কানাডায় অবস্থান করে থাকেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে অন্টারিও সুপিরিয়র কোর্ট অব জাস্টিস প্রথম প্রজন্মভিত্তিক নাগরিকত্ব সীমাবদ্ধতাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করার পর এ আইন সংশোধনের পথ তৈরি হয়।
সবার দেশ/কেএম




























