সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন
‘শেষ হয়ে যায়নি আওয়ামী লীগ, আগামী নির্বাচনেই অংশ নিবে’
দেশের রাজনীতিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আবারও সক্রিয়ভাবে ফিরে আসতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন। তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে একেবারে বিদায় হয়ে গেছে—এমনটা ভাবার সুযোগ নেই; বরং দলটি আগামী জাতীয় নির্বাচনেই অংশ নিতে পারে।
একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জনগণের মনস্তত্ত্ব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের মানুষের স্মৃতিশক্তি খুব দীর্ঘস্থায়ী নয়। রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জনমতেরও পরিবর্তন ঘটে। সে বাস্তবতা বিবেচনায় আওয়ামী লীগ আবারও রাজনীতির মূল ধারায় ফিরে আসবে বলেই তিনি ধারণা করছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনকালীন অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় অন্তত তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাকে জানানো হয়, তার পদত্যাগ বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের জন্য বড় ধরনের অস্বস্তি ও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। সে কারণেই শেষ পর্যন্ত দায়িত্বে থেকে যান তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনে ‘ডিপস্টেট’ বা অদৃশ্য কোনো শক্তির সম্পৃক্ততা ছিলো কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি বড় রাজনৈতিক ঘটনার পেছনেই কোনও না কোনওভাবে ডিপস্টেটের ভূমিকা থাকে। তবে তারা কখনও সরাসরি স্রোতের বিপরীতে কাজ করে না; বরং চলমান পরিস্থিতিকে নিজেদের অনুকূলে নিয়ে নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে।
সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের ভেতরে তথাকথিত ‘কিচেন কেবিনেট’ বা প্রভাবশালী একটি গোপন বলয়ের অস্তিত্ব নিয়েও কথা বলেন। তার ভাষ্য, বিশেষ একটি উপলক্ষে তাকে ওই গ্রুপের বৈঠকে অংশ নিতে হয়েছিলো। পরে তিনি জানতে পারেন, প্রতি মঙ্গলবার নিয়মিতভাবে এ বলয়ের বৈঠক হতো এবং সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সেখানে নেয়া হতো।
পর্দার আড়ালে থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এমন একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী নিয়ে সরকারের ভেতরে ও বাইরে নানা গুঞ্জন ছিলো বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া ভোটের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও কথা বলেন সাবেক এ উপদেষ্টা। তিনি স্পষ্ট করে জানান, পুরো প্রক্রিয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনও ভূমিকা ছিলো না। বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা দেখভাল করেছিলেন।
তার মতে, কোনও বিশেষ বাধ্যবাধকতা বা জরুরি পরিস্থিতি না থাকলে এমন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেয়াই অধিক যৌক্তিক হতো।
ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–কে দেশে ফেরত আনার জন্য দিল্লিতে পাঠানো চিঠি প্রসঙ্গেও কথা বলেন তৌহিদ হোসেন। তিনি জানান, চিঠি পাঠানো হলেও ভারত ইতিবাচক সাড়া দেবে—এমন প্রত্যাশা তার ছিলো না।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা কি সত্যিই কোনও উত্তরের আশা করেছিলাম?—এমন পাল্টা প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন, বিষয়টি অনেকটাই আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ ছিলো।
রাজনৈতিক অঙ্গনে তৌহিদ হোসেনের এসব মন্তব্য নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনীতি, অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি নিয়ে তার খোলামেলা বক্তব্য এখন রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























