Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:০৮, ২৩ জুলাই ২০২৫

‘তারেক রহমানের চাচাতো বোন’ সে সাহসী শিক্ষিকা মাহরিন

‘তারেক রহমানের চাচাতো বোন’ সে সাহসী শিক্ষিকা মাহরিন

ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় শিক্ষিকা মাহরিন চৌধুরীর আত্মত্যাগ দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে নিজের জীবন বিলিয়ে দেয়া এ শিক্ষিকা ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির কো-অর্ডিনেটর। দুর্ঘটনার সময় তিনি ২০ জন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে নিজে আগুনে দগ্ধ হন এবং রাত ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

তবে তার মৃত্যুতে শোকাবেগের মাঝেই সামনে এসেছে আরও একটি বিস্ময়কর তথ্য—মাহরিন চৌধুরী ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভাইয়ের মেয়ে, অর্থাৎ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চাচাতো বোন।

এ তথ্য প্রথমে প্রকাশ করেন মাহরিনের সহপাঠী ও প্রতিবেশী আলী আহমাদ মাবরুর, যিনি মানারাত ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজিতে মাস্টার্স করার সময় মাহরিনের জুনিয়র ছিলেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে মাবরুর জানান, মাহরিন ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে ও নিভৃতচারি। তিনি নিয়মিত নামাজ পড়তেন, কোরআন তেলাওয়াত করতেন এবং নিজের রাজনৈতিক পরিচয় কখনও সামনে আনতেন না।

মাবরুর লিখেছেন, মাহরিন আপা কখনোই নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করেননি। কিন্তু ২০০৭ সালের জরুরি অবস্থা বা বর্তমান ফ্যাসিবাদী আমলেও তিনি সাহসের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের পাশে থেকেছেন। খাবার-পথ্য নিয়ে গুলশান অফিসে যেতেন, যদিও তা কখনও প্রকাশ করতেন না।

মাহরিনের পারিবারিক পরিচয় নিয়ে আরও আলোচনার জন্ম দেয় একটি ভিডিও ক্লিপ, যেখানে মাহরিন নিজেই বলেন, আমি তারেক রহমানের বোন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমার চাচা। একইসঙ্গে বলেন, আমি খুবই সাধারণ একজন মানুষ, আমি শুধু একটি চাকরি করি।

আরও পড়ুন <<>> ২০ শিক্ষার্থীকে বাঁচিয়ে চলে গেলেন শিক্ষিকা মেহেরীন চৌধুরী

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী নারী সাংবাদিকদের বলেন, যিনি মারা গেছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট জিয়ার ভাইয়ের মেয়ে, বাড়ি নীলফামারীতে।

তবে মাহরিনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে দলের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, দল থেকে আমাকে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

মাহরিনের মৃত্যু যেমন এক মমতাময়ী শিক্ষিকার বীরত্বগাঁথা হয়ে মানুষের হৃদয়ে দাগ কেটেছে, তেমনি তার গোপন রাখা রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আসায় আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। রাজনৈতিক সুবিধা না নিয়েও নিঃশব্দে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া এক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নারীর এ গল্প সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

মাহরিনের আত্মত্যাগ এবং তার পরিচয় নতুন করে জাতীয় রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে। তার জীবন যেমন ছিল পরিশ্রমী ও আত্মত্যাগী, তেমনি মৃত্যুও রেখে গেছে এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

খামেনি হত্যার প্রতিশোধের লাল পতাকা উড়ালো ইরান
ইসরায়েলি হামলায় কেঁপে উঠলো ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন
চরাঞ্চলের অর্থনীতিতে ভরসা প্রাণিসম্পদ খাত, সেবার সংকটে শঙ্কা
রাষ্ট্রপতির অভিশংসনেই সংসদের যাত্রা শুরু হোক: আসিফ
ইরানে হামলার তীব্র নিন্দা জামায়াত আমিরের
রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করে গ্রেফতারের দাবি নাহিদ ইসলামের
যুক্তরাষ্ট্রে রাতভর গোলাগুলি, নিহত ৩, আহত ১৪
ভারত থেকে দেশে ফিরলো আওয়ামী এমপির লাশ
যশোরে জেলা জজ পদশূন্য, ভারপ্রাপ্ত জজের ওপর অনাস্থা
খামেনিকে হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
কোকো ভাইয়ের অবদান তুলে ধরতে পারিনি—অনুশোচনায় তামিম
হরমুজ প্রণালি বন্ধে বিশ্ব তেলবাজার টালমাটাল-দাম লাফিয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি
জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল প্রশাসনের ওপর গুরুত্বারোপ
বীরগঞ্জে ২ মাদক সেবীর কারাদণ্ড
খাগড়াছড়িতে আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদ নির্বাচনসহ ৭ দফা দাবিতে স্মারকলিপি
আধিপত্যবাদের নগ্নরূপ: আক্রান্ত ইরান ও সভ্যতার সংকট
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ নিহত: রিপোর্ট
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র চুরমার করলো ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা, নিহত ৮