বীরগঞ্জে জমি দখলের অভিযোগ, প্রবাসী পরিবারের আর্তনাদ
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বৈধ দলিল, খাজনা ও রেকর্ডভুক্ত জমি জবরদখলের চেষ্টা, হামলা-মামলা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার (৪ মে) বীরগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের সনকা মৌজার ১৫০ নম্বর দাগের ৮৯ শতাংশ জমির প্রকৃত মালিক ছিলেন মরহুম আফজাল হোসেন। তিনি ১৯৯৯ ও ২০০৪ সালে পৃথক দলিলের মাধ্যমে জমিটি ক্রয় করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রেখে চাষাবাদ করে আসছিলেন।
পরিবারের দাবি, জমিটি নিজ নামে খাজনা খারিজ করা হয়েছে এবং সর্বশেষ জরিপেও আফজাল হোসেন ও তার স্ত্রী আছিয়া খাতুনের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে ওই জমিতে ইউক্যালিপটাস গাছের বাগান গড়ে তোলা হলে সেটি বর্তমানে মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়।
আফজাল হোসেন ২০২৩ সালে মারা গেলে তার স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তির মালিক হন। তাদের মধ্যে রুজ্জামান কামরু কারাম ও জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, জমির মালিকানা শতভাগ বৈধ ও স্বচ্ছ হওয়ার পরও একটি চক্র ভুয়া ও বানোয়াট কাগজপত্র দেখিয়ে বাগান দখলের চেষ্টা করছে। ওই চক্র প্রশাসন ও স্থানীয় মানুষকে বিভ্রান্ত করে সম্পত্তি দখলের পরিকল্পনা করছে বলেও দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, জমি দখলের উদ্দেশ্যে মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং হামলার নাটক সাজিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। এতে দুইজনকে কারাগারেও পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আমরা প্রবাসে থাকি বলে হয়তো তারা মনে করেছে সম্পত্তি দখল করা সহজ হবে। কিন্তু প্রবাসীদের সম্পদ রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৫ সালে প্রবাসী উত্তরাধিকারী রুজ্জামান কামরু কারাম প্রতিবেশী রেজাউল ইসলামকে আমমোক্তারনামার মাধ্যমে সম্পত্তি দেখভাল ও মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, প্রতিপক্ষরা জমিটিকে কবরস্থান হিসেবে দাবি করলেও সরকারি রেকর্ডে কবরস্থানের কোনও উল্লেখ নেই। এছাড়া বাগানের ভেতরে থাকা মাটির ঢিবিগুলোও খ্রিস্টান কবরের প্রচলিত কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তারা উল্লেখ করেন।
পরিবারের অভিযোগ, গত ১৯ এপ্রিল আন্তনি মুরমুর নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে ওই জমিতে নতুন মন্দির নির্মাণ ও ভাঙচুরের ঘটনা সাজিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। পরে এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত ২৬ এপ্রিল রেজাউল ইসলাম বাদী হয়ে আদালতে ২০৬ নম্বর মামলা দায়ের করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।
প্রবাসী রুজ্জামান কামরু কারাম ও জাহাঙ্গীর আলমের সম্মতি ও নির্দেশনায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগম।
সবার দেশ/কেএম




























